পৃথিবীর বাইরে ৬৬৬ দিন

নিউজ ডেস্কঃ

নভোযান কিংবা বাসযোগ্য কৃত্রিম উপগ্রহ—এটি যা-ই হোক, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নামেই পরিচিত। এমনকি মহাকাশ পর্যবেক্ষণের অবজারভেটরি বা গবেষণাগারও বলতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, অজানা মহাশূন্যে এটি পৃথিবীবাসীর ঘর। নানা দেশ, নানা জাতির মানুষ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে। তবে এ ঘর একজন নারীকে খুব ভালোভাবে চেনে, তিনি পেগি হুইটসন। যার জীবনের ৬৬৬ দিন কেটেছে এ ঘরেই।
প্রথম মিশনেই ৬ মাস

১৯৯৬ সালে হুইটসন নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই বছরের আগস্টে তার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। দুই বছর প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন করার পর তাকে অ্যাস্ট্রোনট অফিস অপারেশনস পরিকল্পনা শাখায় কারিগরি দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত রাশিয়ায় ক্রু টেস্ট সহায়তা দলের নেতৃত্ব হিসাবে কাজ করেন তিনি।

তবে হুইটসনের স্বপ্নের মতো দিনটি আসে ২০০২ সালের ৫ জুন। সেদিন তিনি পাঁচ নভোচারীর সঙ্গে পাড়ি জমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস)। প্রথম মিশনেই আইএসএস-এ তিনি ৬ মাস অবস্থান করেন। আরও ভালোভাবে বললে, ১৮৪ দিন ২২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের ব্যবধানে একই বছরের ডিসেম্বরে ফিরে আসেন তিনি।

গড়েছেন বহু রেকর্ড

মহাকাশে পাড়ি জমানোর অনেক রেকর্ডই মার্কিন জৈব-রসায়নবিদ পেগি হুইটসনের দখলে। ২০০৭ সালে প্রথম নারী কমান্ডার হিসেবে মিশনের দায়িত্ব পান তিনি। সেই মিশনে তিনি ১৯১ দিন ১৯ ঘণ্টা ৪ মিনিট আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করেন। তখন পর্যন্ত এটি ছিল পৃথিবীর বাইরে কোনো নারীর কাটানো সবচেয়ে বেশি সময়।

২০০২ সাল থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে ৬৬৬ দিন তিনি পৃথিবীর বাইরে কাটিয়েছেন, যা কোনো নারীর জন্য সর্বোচ্চ। এর মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন ২০১৭ সালে। সেই বছর একটি অভিযাত্রা থেকে ২৮৯ দিন পর তিনি ফিরে আসেন ভূপৃষ্ঠে। তখনকার ৫৭ বছয় বয়সি হুইটসনের জন্য সেটি ছিল সবচেয়ে বেশি বয়সি নারী হিসেবে মহাকাশ যাত্রা।

হুইটসন ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নভোচারী কর্পসের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি প্রথম মহিলা, যিন নভোচারী অফিসের নিরস্ত্র সামরিক বাহিনী ছিলেন। এই পদে দায়িত্ব নিয়ে তিনি মিশন প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের নভোচারীদের সবকিছুই দেখভাল করতেন।

হুইটসন তার স্পেসফ্লাইট অ্যাডভেঞ্চার বন্ধ করতে চান না। ২০১৭ সালে কক্ষপথ থেকে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অবশ্যই চাঁদ, মঙ্গল কিংবা অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে চাই।’

হুইটসনের বর্তমান বয়স ৬১ বছর। তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স কোনো বিষয় নয়। আপনার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আসতে পারে যেকোনো সময়। আপনাকে শুধু তৈরি থাকতে হবে স্বপ্নের হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। হুইটসনের মত নারীরাই আমাদের প্রেরণা।

  •  
  •  
  •  
  •