মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে নিহত ১১৪

mym

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী চলমান বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিনে ১১৪ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। শনিবার দেশটির সশস্ত্রবাহিনী দিবসে এই হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে নিরাপত্তাবাহিনী।

দেশটির সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং দেশের মানুষকে ও গণতন্ত্র রক্ষায় লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এতো প্রাণহানি ঘটে।

জান্তাবিরোধী গোষ্ঠী বিআরপিএইচের মুখপাত্র ডা. সাসা বলেন, আজকের দিনটি সশস্ত্র বাহিনীর জন্য লজ্জাজনক। তিন শতাধিক নিরপরাধ মানুষকে হত্যার পর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করছেন জেনারেলরা।

এদিকে, রাজধানী নেপিদোতে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার পর ফের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন শীর্ষ জেনারেল মিন অং হ্লাইং। তবে তিনি নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য কোনো তারিখ উল্লেখ করেনি।

বিক্ষোভকারী থু ইয়া জা বলেছেন, তারা আমাদের পাখি বা মুরগির মতো গুলি করে হত্যা করছে। আমাদের ঘরে ঘরে গিয়ে হত্যা করছে। তবে আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। জান্তা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আমাদের লড়াই করতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সহিংসতা বন্ধে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন বলেন, শনিবারের হত্যাকাণ্ডে ভীত। তবে বার্মার সাহসী জনগণ সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসের রাজত্বকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টোনিও গুতেরেসও জানিয়েছেন, তিনি গভীরভাবে হতবাক।

উল্লেখ্য সেনাবাহিনী ও বেসামরিক সরকারের মধ্যে নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে।

এর পরপরই এনএলডির শীর্ষ নেত্রী অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সদস্যসহ প্রভাবশালী রাজনীতিকদের আটক করে সেনাবাহিনী।

পরে সেনাবাহিনী এক ঘোষণায় জানায়, আগামী ১ বছরের জন্য মিয়ানমারের ক্ষমতায় থাকবে তারা।

  •  
  •  
  •  
  •