কন্টেইনারে সুতার বদলে এলো বালু!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চীন থেকে সুতা আমদানির ঘোষণা দিয়ে বস্তাভর্তি বালু আনলো নারায়ণগঞ্জের আমদানিকারক সোয়ারা ফ্যাশন। দুটি চালানেই কন্টেইনার খুলে বালি ধরা পড়লো চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা দলের হাতে। প্রথম চালানটি শুক্রবার ধরা পড়ার পর আজ সোমবার দ্বিতীয় চালানটি আটক করে চট্টগ্রাম বন্দরের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ধারণা, সুতা আমদানির আড়ালে বালু এনে অর্থপাচার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা করা হবে।

আটকের বিষয় নিশ্চিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা দল প্রধান ও সহকারী কমিশনার নুর এ হাসনা সানজিদা অনুসুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রথম চালানটি শুক্রবার আটক করে কন্টেইনার খোলার পর বালু ধরা পড়ে। পরে খবর পাই একই আমদানিকারকের আরেকটি চালান রয়েছে; সেটিও পরীক্ষা করে একই ধরনের বালু পাওয়া যায়। দুটি চালানটি আটক করেছি।

তিনি বলেন, এতে অর্থ পাচার হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণপত্রের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে কি না সেটি তদন্ত করছি। একইসাথে বালুর নমুনা নিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে যাতে আমরা নিশ্চিত হই এই বালু সাধারণ নাকি কোনো খনিজ বালু। নিশ্চিত হয়েই আমদানিকারকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা করা হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি চালানের মোট ঘোষিত মূল্য ৪৯ হাজার ৬৯২ মার্কিন ডলার বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৩ লাখ টাকা। এর ওপর পলিয়েস্টার ইয়ার্ন আমদানিতে শুল্কহার ৫৯ শতাংশ; সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার মতো হবে চালানের মূল্য।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্প এলাকার মেসার্স সোয়ারা ফ্যাশন। চীন থেকে দুই কন্টেইনার পলিয়েস্টার ইয়ার্ন বা সুতা আমদানির জন্য ঢাকার এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋণপত্র খুলে। প্রথম ঋণপত্রে ২৫ হাজার ৫০৫ মার্কিন ডলার ঋণপত্রের মাধ্যমে চীন থেকে ২৩ হাজার ৪০ কেজি সুতা আমদানির ঘোষণা দেয়। এরপর দ্বিতীয় ঋণপত্রে ২৪ হাজার ১৯২ মার্কিন ডলারে ২৩ টন পলিয়েস্টার ইয়ার্ন আমদানির ঘোষনা দেয়। দুটি চালানের বিল অব এন্ট্রি জমা পড়ে গত ২২ জানুয়ারি। দুটি চালানের রপ্তানিকারকও একই চীনের জিনতাই ইয়ামিঝি টেক্সটাইলস কম্পানি। চালানটি জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ চট্টগ্রামের ফকিরহাটের তানসা ওভারসিস গত ২২ জানুয়ারি চালানের বিল অব এন্ট্রি চট্টগ্রাম কাস্টমসে জমা দেন।

আগে থেকে তথ্য থাকায় চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড়ের আগে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লক বা বন্ধ করে দেন কাস্টমস গোয়েন্দা দল এআইআর শাখা। পরে নিয়মানুযায়ি চালানটি কন্টেইনার খুলে কায়িক পরীক্ষার পর সব বস্তাভর্তি সাধারন বালু পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে মিথ্যা ঘোষনায় কোন চালান ধরা পড়লে কিংবা এক পণ্য ঘোষণা দিয়ে অন্য পণ্য চলে আসলে এবং তা কাস্টমসের হাতে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারক একটাই কথা বলে, সেটি হচ্ছে ‘সরবরাহকারী ভুল করে পাঠিয়েছে ফলে এতে আমাদের কোন দোষ নেই’। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

কন্টেইনার খুলে কায়িক পরীক্ষায় উপস্থিত সোয়ারা ফ্যাশনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘চীন থেকে রপ্তানিকারক কোম্পানি হয়ত ভুল করে এটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। আমরা এখনো ব্যাংক থেকে টাকা ছাড় দিইনি। সুতরাং এখানে অর্থপাচার হয়নি।’

আর কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম চালান ধরা পড়ার পর দ্বিতীয় চালানের বিষয়ে আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তানসা ওভারসিসই তথ্য দেয় কাস্টমসকে। মুলত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দায় এড়ানোর জন্যই এই কাজটি করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •