বগুড়ায় শিলাবৃষ্টি ও অতি বৃষ্টিপাতে ক্ষতি হয়েছে সবজির

নিউজ ডেস্কঃ

বগুড়ায় গত কয়েকদিনের টানা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জমির শাকসবজি পেঁপে, কলা, বেগুন, মরিচ, করলা, বরবটি, ঝিঙ্গে, লাউ, কুমড়া পোটলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সবজি চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে।

সবজি চাষিরা জানান, কিছুদিন আগের ঘূর্ণিঝড় আমফানে বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজি বাগানের চারাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সবজি বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কৃষক তখন জমির বোরো পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তারপর দেরিতে নতুন করে সবজি চাষের প্রস্তুতি নিলেও অতিবৃষ্টির কারণে সবজির জমি নতুন করে প্রস্তুত করতে পারছেন না।

জেলা কৃষি অফিস জানায়, বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া, শেখেরকোলা, গোকুল, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর, মোকামতলা, গাবতলী উপজেলার কাগইল, সোনারায় রামেশ্বরপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকায় প্রচুর সবজি চাষ হয়। এসব সবজি, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হয় মহাস্থান বন্দর বাজারে। ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব সবজি কিনতে আসে এখানে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে, বিভিন্ন আড়তের মাধ্যমে এসব সবজি যেত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এবার করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ঠিকমত সবজি চাষ করতে না পারায় হতাসাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে চাষিরা।

লাহিড়ীপাড়ার মধুমাঝিড়ার সবজি চাষি আলহাজ্ব ইউনুছ আলী জানান, ৪০ শতক জমিতে পেঁপে ও এক বিঘা জমিতে কলা বাগান করে অনেক টাকা খরচ করেছি। কিন্তু ঝড়ো বাতাসে পেঁপে ও কলাবাগান শেষ হয়ে গেছে। এখন ভরসা পেঁপে বাগানের সাথি ফসল আদা। আল্লাহ রহম করলে আদাতে ভাল আয় পাব।

একই এলাকার কৃষক মোজাহার, ছামচুল হক, আলমগীর, জাহেদুল, আব্দুর রশিদ, লজিম উদ্দীন, আব্দুস ছাত্তারসহ প্রায় সব কৃষকের, পেঁপে, কলা, বেগুন, মরিচ, করলা, বরবটি, ঝিঙ্গে, লাউ, কুমড়া পোটলসহ প্রায় সব সবজির বাগান নষ্ট হয়ে গেছে শিলাবৃষ্টিতে।

  •  
  •  
  •  
  •