সীমান্তে আটকে আছে ইপিবির ভুলে রফতানি পণ্যের অর্ধশত গাড়ি

নিউজ ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। সম্প্রতি স্থলবন্দরগুলো খুলে দেয়া হলেও বেশিরভাগ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের ট্রাক ঢুকতে দিচ্ছিল না ভারত। এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন দেশের রফতানিকারকরা। ইতোমধ্যে সে সমস্যা কেটে গেছে। তবে এবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভুলে বিপদে পড়েছেন রফতানিকারকরা। সংস্থাটির খামখেয়ালির কারণে সিলেটের বিয়ানীবাজারের শেওলা স্থলবন্দরে দুই দিন ধরে আটকে আছে ৫১টি রফতানি পণ্যবাহী গাড়ি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি ইপিবির মহাপরিচালক-২ মাহবুবুর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় ছয়জন কর্মকর্তাকে অথরাইজড সিগনেটরির দায়িত্ব দিয়ে একটি লিস্ট ইস্যু করেন। যার ফলে ওই ছয় কর্মকর্তা ভারতসহ সাফটার আওতায় অন্যান্য দেশে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অথরাইজড পারসন হিসেবে কাজের দায়িত্ব পান।

পরে ইস্যুকৃত এ লিস্ট ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের কাছে পাঠায় ইপিবি। কিন্তু সংস্থাটি গত ৫ জানুয়ারি এ লিস্ট ইস্যু করলেও আপডেট করার অনুরোধ জানিয়ে তা ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় গত ২৯ জুন। ভারত সেটিকে তাদের সীমান্তের সকল কাস্টমস অফিসে পাঠায় গত ৩ জুলাই। আর এটিকে কার্যকরের কথা বলা হয় ১৪ জুলাই থেকে। সে নির্দেশনা অনুসারে তারপর থেকে ভারতের আসামের করিমগঞ্জের সুতারকান্দি কাস্টমস ওই ছয়জনের বাইরে অন্য কারও সিগনেচারে পণ্য ডেলিভারি নিচ্ছে না।

এদিকে ইপিবি থেকে যে ছয়জনের লিস্ট পাঠানো হয়েছে তাদের টেক্সটাইল পণ্যের অথরাইজড পারসন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা নন-টেক্সটাইল পণ্যের অথরাইজড পারসন নন। এর মধ্যে গত ১৪ জুলাই বাংলাদেশি বেশ কয়েকটি নন-টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠানের ৫১টি গাড়ি শেওলা স্থলবন্দরে গিয়ে আটকে যায়। এসব গাড়ি সুতারকান্দি বন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রফতানির জন্য যাচ্ছিল। কিন্তু সুতারকান্দি কাস্টমস নতুন লিস্টের ছয়জনের কারও সিগনেচার এসব গাড়ির পণ্যে না দেখে সেগুলো আটকে দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করলে ইপিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘একটা ভুল হয়ে গেছে। আবার লিস্ট পাঠানো হচ্ছে।’

সূত্র জানায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের যোগাযোগের পর ইপিবি নন-টেক্সটাইল পণ্যের জন্য আরও ছয়জনের লিস্ট গত ১৪ জুলাই ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের কাছে পাঠায়। পরের দিন ১৫ জুলাই সেই তালিকা ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠায় হাইকমিশন।

কিন্তু ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় আজ ১৬ জুলাই পর্যন্ত তাদের সীমান্তের কাস্টমস অফিসগুলোতে এ লিস্ট পাঠায়নি। তাছাড়া বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে ভারত শুক্র, শনি ও রোববার তাদের কাস্টমস কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। তাই আগামী আরও তিনদিন পণ্য নিয়ে বন্দরেই অপেক্ষা করতে হবে ৫১টি গাড়িকে। এতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন রফতানিকারকরা।

ইপিবির এ খামখেয়ালিপনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন গাড়িপ্রতি দুই হাজার টাকা করে ড্যামারেজ দেয়া লাগছে। তাছাড়া ড্রাইভার ও ড্রাইভারের সহকারীদের গাড়িতে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে। ড্রাইভার ও ড্রাইভারের সহকারীদের জন্যও দৈনিক খরচ করতে হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ জটিলতার কারণে শেওলা স্থলবন্দরে ৫১টি পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়েছে। এর মধ্যে সজিব গ্রুপের ১৬টি গাড়ি, প্রাণ-এর ১২টি গাড়ি, আরএফএল-এর ১২টি গাড়ি, হাতিলের একটি গাড়ি, ন্যাশনাল পলিমারের একটি গাড়ি, আকিজ গ্রুপের একটি গাড়ি, পুষ্টি অয়েলের একটি গাড়ি, বঙ্গ-এর দুইটি গাড়ি এবং ফ্যাবকোন টেক্সটাইলের রয়েছে একটি গাড়ি।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ভারতের অন্যান্য সীমান্তে গাড়িগুলো যেতে দেয়া হচ্ছে। তবে সুতারকান্দি কাস্টমস এ বিষয়ে ভুলে ধরে গাড়িগুলো যেতে দিচ্ছে না।

টেক্সটাইল খাতের পণ্যের জন্য অথরাইজড পারসন ছয়জনের নতুন লিস্ট ইস্যু করলেও নন-টেক্সটাইল খাতের পণ্যের বিষয়টি ইপিবি মাথায় না রাখার কারণে এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমনকি নন-টেক্সটাইল খাতের জন্য পুরোনো যেসব অথরাইজড পারসন রয়েছেন সেগুলো বলবৎ থাকবে এ রকম কোনো কিছুও বলা হয়নি। এদিকে রফতানিকারকরা পুরোনো যেসব অথরাইজড পারসন রয়েছেন তাদের সিগনেচারে পণ্য নিয়ে গেছেন। তাই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে ইপিবির মহাপরিচালক-২ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের একটি সমস্যা হয়েছে। এটা যত দ্রুত সমাধান করা যায় সেটা আমরা দেখছি।’

  •  
  •  
  •  
  •