বন্যায় ৩৫০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে , ক্ষতি হয়েছে সোয়া ৩ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্কঃ

গত কয়েকদিনের বন্যায় নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ৩৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে উপজেলার ২৪৪ জন মাছ চাষিসহ তাদের উপর নির্ভরশীল অন্তত আরও তিন শতাধিক পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুধু মৎস্য বিভাগের হিসাবেই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১২০ মেট্রিক টন মাছ ও এক মেট্রিক টনেরও বেশি পরিমাণ পোনা। যার আনুমানিক মূল্য তিন কোটি ২৭ লাখ টাকা।

আর মৎস্যচাষিদের দাবি, এবারের বন্যার পুকুর ভেসে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। ফলে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন তারা।

সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, বন্যার কারণে এ পর্যন্ত উপজেলায় ৩৫০টি পুকুরের চাষ করা ১২০ টন মাছ ও এক মেট্রিক টনেরও বেশি পরিমাণ পোনামাছ পানিতে ভেসে গেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে সিংড়ায় বন্যার পানি বাড়লেও ১৫ জুলাই শেরকোল তেমুখ-নওগাঁ সড়ক বাঁধ ভেঙে যায়। এই ভাঙনের ফলে শেরকোল ও তাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় এই দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন পুকুরের তিন শতাধিক মাছের ঘেরে কার্প জাতীয় মাছগুলো ভেসে যায়। এছাড়া চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বিলদহর বাজার ও আশপাশের এলাকার শতাধিক পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে যায়।

মাছচাষি বলেন, কৃষিখাতের মতো সরকার প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে মাছচাষিরা আর্থিকভাবে কিছুটা হলেও লাভবান হতো। বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

শেরকোল ইউনিয়নের শিববাড়ি গ্রামের মাছচাষি মিলন হোসেন জানান, হঠাৎ বন্যায় তার মাছের ঘেরটি পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। মাছ বড় হওয়ায় জাল টেনে কিছু মাছ রক্ষা করা গেছে। তবে বেশিরভাগ মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের মাছচাষি আব্দুল গফুর জানান, বন্যার পানিতে তার চার লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি মাছের চাষ শুরু করেছিলেন। আর কিছুদিন পর মাছগুলো বিক্রি করে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতেন। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি পেলেন না।

সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা ওয়ালী উল্লাহ বলেন, আমরা চাষিদের ক্ষয়-ক্ষতির ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে আপাতত মাছচাষিদের জন্য কোনো ভালো খবর নেই। কৃষিখাতের মতো মৎস্যখাতে সরকারের ক্ষতিজনিত প্রণোদনা না থাকায় এ খাতে ক্ষতিপূরণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা অবশ্যই তা জানতে পারবেন।

নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক  জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের প্রণোদনা দেওয়া যায় কিনা- সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •