কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে অন্য জেলা থেকে আনা হচ্ছে পশু

নিউজ ডেস্কঃ

দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। কিন্তু উল্টো পথে রয়েছে বরিশাল বিভাগ। এ চিত্র কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত রয়েছে। কোরবানির পশুর চাহিদা স্থানীয়ভাবে মেটাতে না পারার সমস্যাটি বর্তমানে স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে। বিভাগের জেলাগুলোয় ঈদুল আজহায় যে পরিমাণ পশুর চাহিদা থাকে তার তিন ভাগের একভাগ স্থানীয়ভাবে মেটানো সম্ভব হয়। চাহিদা মেটাতে এবারো সীমান্ত এলাকা থেকে অর্ধেকেরও বেশি পশু আনতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানিযোগ্য পশু সংকট আগের মতোই। বিভাগে যে সংখ্যক পশুর চাহিদা আছে, তার তিন ভাগের একভাগ পশু বরিশালের খামারিদের হাতে রয়েছে। এদিকে প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবে আসন্ন কোরবানিতে পশুর দাম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বরিশাল বিভাগের খামারিসহ বিক্রেতারাও। অন্যদিকে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকার দাবিও উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের।

করোনা সংকটের কারণে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্নও হতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, গত বছরের চেয়ে এবার কম সংখ্যক পশু কোরবানি হতে পারে। করোনা সংকটে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা এবার কোরবানি নাও দিতে পারেন। যে কারণে দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকার কথা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, গত বছর বরিশাল বিভাগে ৩ লাখ ১৬ হাজার ২৫টি গরু-মহিষ এবং ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১টি ছাগল-ভেড়া কোরবানি দেয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৬টি পশু কোরবানি দেয়া হয়েছিল বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায়। চামড়া সংগ্রহের ভিত্তিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ এ তথ্য সংখ্যা করেছে। তারা প্রতি বছর বিগত বছরের চেয়ে তিন ভাগ বেশি ধরে কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করে। সে হিসাবে এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় সাড়ে চার লাখ। তবে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় খামারিদের কোরবানিযোগ্য পশু আছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪১টি। অর্থাৎ চাহিদার চার ভাগের এক ভাগও নেই।

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশালের উপপরিচালক কানাই লাল স্বর্ণকার বলেন, গত বছর শেষ মুহূর্তে পশু কোরবানি দেয়া প্রায় সব পরিবার বা ব্যক্তি এবারো কোরবানি দেবেন বলে ধারণা। এ হিসাবে গত বছরের সমান পশুর চাহিদা থাকবে এবারের কোরবানিতেও।

তিনি বলেন, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা পশু এনে বিক্রি করায় বরিশালে কখনো সংকট হয় না। গত বছর চাহিদা মেটানোর পর বিভাগের হাটবাজারে ৪০ হাজার ৪২৬টি গরু-মহিষ এবং ৮ হাজার ৬৩২টি ছাগল-ভেড়া অবিক্রীত ছিল।

বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণিসম্পদ বৃদ্ধিতে আগের চেয়ে অবস্থা উন্নীত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের তরুণ ব্যবসায়ীরা পশু খামারের ব্যবসায় ঝুঁকছেন। এ অঞ্চলে চাহিদার বড় সরবরাহ আসে চরাঞ্চলে কৃষকদের পালিত পশু থেকে।

তথ্যানুযায়ী, বরিশালের ছয় জেলার ১৯ হাজার ৮০৬ জন খামারির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোরবানিযোগ্য ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪১টি পশুর হিসাব পাওয়া গেছে। যে সংখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ১ লাখ ৩০ থেকে ৪০ হাজারে গিয়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিকভাবে লালন-পালন করা (গৃহস্থালি) আরো প্রায় ৫০-৬০ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

এদিকে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব কোরবানির পশুর হাটেও পড়বে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

বরিশাল সদর উপজেলার তালুকদার হাট এলাকার রাখালী এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. জাহিদুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে এবার ষাঁড় গরু খামারে তোলেননি। তবে দুটি গরু রয়েছে কোরবানিতে বিক্রিযোগ্য। এ দুটির দাম ১ লাখ করে চাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সাড়া মেলেনি।

তিনি বলেন, এবার কোরবানি দেয়ার হারের ওপর দাম নির্ভর করবে। একই খামারের খামারি আল আমিন বলেন, করোনার ভয়ে এবার গরুই উঠাইনি, যা আছে তার দাম পাব কিনা তাতে সন্দেহ আছে। মো. দেলোয়ার হোসেন নামে চন্দ্রমোহনের এক খামারি জানান, তার গরু আছে। কিন্তু করোনার ভয়ে হাটে যাবেন না। বরিশালের বৃহৎ পশুর হাট বানারীপাড়ার গুয়াচিত্তা, বাকেরগঞ্জের বোয়ালী, কাগাসুরা গরুর হাটে তোড়জোড় চলছে। গুয়াচিত্তা পশুর হাটের ইজারাদার মিলন মৃধা বলেন, সীমান্ত এলাকার পশুর ওপর এ অঞ্চলের হাটগুলো নির্ভরশীল। এবার করোনার কারণে পশু বিক্রি ও দাম নিয়ে আমরা এখনো সন্দিহান।

  •  
  •  
  •  
  •