সিরাজগঞ্জে খামারিরা গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায়

নিউজ ডেস্কঃ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় কয়েক লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে কোরবানির চাহিদা পূরণ হয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।

তবে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের পাশাপাশি গরুর সঠিক দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে জেলার খামারি ও বিক্রেতারা। ধার-দেনায় বড় করা গরুগুলোকে বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। তবে লোকসান পুষিয়ে নিতে প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খামার থেকে গরু হাটে আনা অনেক কষ্টকর। গরুগুলো খামারে গরমের সময় ফ্যানের নিচে থাকে। হাটে আনার পর অস্থির হয়ে পড়ে গরুগুলো। হাটে ব্যাপারীদের আনাগোনা খুবই কম ও হাকডাক নেই তাদের। গরুর দাম অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। ফলে লোকসানের পাল্লা বাড়ছেই। সেই সঙ্গে কষ্ট বাড়ছে গরুগুলোর।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, কোরবানির বাজারের জন্য ৯০ হাজার গরু, ৩৫ হাজার ছাগল, ১০ হাজার ভেড়া ও অন্যান্য ৯ হাজার প্রস্তুত রয়েছে। এতে কোরবানির চাহিদা পূরণ হয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে।

 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের ডেইরি ফার্মের মালিক বোরহান উদ্দিন বলেন, খামারটিতে বিভিন্ন জাতের প্রায় ১০০টি গরু রয়েছে। এসব গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, ভুট্টা ভাঙা, গমের ভূসি ও ধানের কুড়াসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক খাবার। তবে গত বছরে আমার খামারের গরুর বেশ চাহিদাও ছিল। কিন্তু একদিকে করোনা মহামারি এসেই বসে আছে অন্যদিকে দেশে চোরাই পথে গরু আসলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা বেশি খামারিদের।

সদর উপজেলার রতনকান্দি হাটের ইজারাদার ইয়াকুব আলী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে খামারী ও ব্যাপারীসহ সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের মানুষ আসছে। সেই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর থেকে ব্যাপারীরা আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু বিক্রির সংখ্যা কম হওয়াতে খামারি ও বিক্রেতারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

কামারখন্দের রায়দৌলতপুর গ্রামের রকিব শেখ বলেন, প্রতিবছর খুলনা, ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির অনেক আগেই গরু বিক্রি করে থাকি। এ বছর ১০-১৫টি গরু বিক্রির প্রতিশ্রুতি পেলেও বাকি ১০টি কোথায় বিক্রি করবো এ নিয়ে চরম অনিশ্চতায় আছি।

উল্পাপাড়ার বড় পাঙ্গাসীর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি সজীব আহম্মেদ বলেন, প্রতিবছর পার্শ্ববর্তী বোয়ালিয়া, জনতা, বড়হর ও গ্যাসলাইন হাটে গিয়ে সরাসরি গবাদি পশু বিক্রি করি। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে সেভাবে গরুর হাটও বসবে বা ক্রেতা সমাগম হবে কিনা তা বুঝতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

 

শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের খামার গোলজার হোসেন বলেন, কোরবানির জন্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ করে আমার খামারে ৮টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। করোনার মধ্যে এসব গরু কোথায় বিক্রি করবো বা ক্রেতা পাবো কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। প্রতি গরুর পেছনে প্রতিদিন ২৫০-৩০০ টাকা খরচ হচ্ছে।

খামারি বেলাল হোসেন জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তিনটি ষাঁড় প্রস্তুত করছি। এগুলো বিক্রি করে ঠিকমতো দাম পাবো কিনা, তার জন্য দুশ্চিন্তায় আছি।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আখতারুজ্জামান ভুইয়া জানান, প্রতিবছরই আমরা খামারিদের যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেই, এবার কোরবানির আগে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা নিয়ে খামারি বা বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়টি যৌক্তিক। ক্রেতা ঠিকমতো না
পেলে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দেবে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার বিভিন্ন স্থানে গরু-ছাগলের হাট পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, করোনায় কোরবানির আগে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ক্রেতা-বিক্রেতারা কতটুকু মানবে তা নিয়ে আমরাও বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। সেজন্য অনলাইনে গবাদি পশুর বিক্রির বিষয়েই সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •