পশু পরিবহনে আগাম কোনো বুকিংও পাওয়া যায়নি,ব্যবসায়ীদেরও কোন সাড়া নেই

নিউজ ডেস্কঃ

মহামারীর মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজধানীতে আম পরিবহনের ধারাবাহিকতায় এবার কোরবানিতে পশু পরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এজন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে, তবে এখনও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

আগামী ১ অগাস্ট বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ উদযাপন হবে। কোরবানি উপলক্ষে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ট্রেনে করে কোরবানির পশু পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত পশু পরিবহনে আগাম কোনো বুকিংও পাওয়া যায়নি।

রেলের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান মঙ্গলবার বলেন, “এখন পর্যন্ত পশু পরিবহনে কোনো বুকিং বা সাড়া আমরা পাইনি। বিভাগ ও জেলাগুলোতে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তবে সাড়া মিলছে না।”

কোরবানির পশু পরিবহনে সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শামছুজ্জামান বলেন, “বুকিং পাওয়া মাত্র কোরবানির পশু পরিবহন শুরু করা যাবে।”

আগ্রহী ব্যবসায়ীদের রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৭১১-৬৯১৫২০ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে গত ৭ জুলাই কোরবানির পশু পরিবহন করার ঘোষণা দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছিলেন, ব্যবসায়ীদের চাহিদার ভিত্তিতে যে কোনো দিন থেকেই এ ট্রেন চালু করা যাবে।

গাইবান্ধা বা পাবনা অথবা কুষ্টিয়া থেকে চট্টগ্রামে প্রতি গরুর ভাড়া সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং ঢাকায় এক হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা হতে পারে বলেও জানিয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়।

পূর্ব রেলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম জানান, কোরবানির পশুর স্থানীয় হাটগুলোতে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। হাটগুলোতে দেখা যাচ্ছে পশু কিনে ব্যবসায়ীরা ট্রাকে বা ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রস্তুতি পুরোপুরি রয়েছে, বুকিং হলেই পশু পরিবহন শুরু করা যাবে।

‘ক্রেতা নেই’ ঠাকুরগাঁওয়ের পশুর হাটে

ঈদের তিন থেকে চার দিন আগ থেকে পশু পরিবহনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে নাজমুল ইসলাম বলেন, “আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করলে বোঝা যাবে রেলে কোরবানির পশু পরিবহন শুরু করা যাবে কি না।”

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ভুঁঞা বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালানো হলেও ব্যবসায়ীদের সাড়া মেলেনি। তবে পশু পরিবহনে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”

রেলের একটি বগিতে ১৫টি থেকে ১৬টি গরু পরিবহন করা যাবে জানিয়ে আহসান উল্লাহ বলেন, “বুকিংয়ের ওপর নির্ভর করবে কতটি ট্রেন ও বগি পশু পরিবহনে যুক্ত করা হবে।”

রেল কর্মকর্তারা জানান, রেলের একটি ওয়াগনে ১৬টি গরু পরিবহন করা সম্ভব, যার ভাড়া আসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এ ধরনের পরিবহনে ২৫টি ওয়াগন নিয়ে একটি ট্রেন চলে। এজন্য প্রায় ৪০০ গরু প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০০ গরু না পেলে ট্রেন চালিয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে রেল।

রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অপারেটর সাইদুল রহমান বলেন, “এ ঘোষণার পর ৭ থেকে ৮ জন তাদের গরু বা ছাগল পরিবহনে আগ্রহ দেখিয়েছে। কেউ একটি গরু বা কয়েকটি ছাগল পরিবহন করতে চেয়েছে।”

তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ব্যবসায়ীরা এবার দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গরু সংগ্রহ শুরু করেননি বলে খবর আসছে। অন্যান্য বছর ঈদ সামনে রেখে এই সময় সারা দেশে গরু-ছাগল বেচা-বিক্রি পুরোদমে চললেও এবার তা হয়নি। এর কারণে হিসেবে এবার ঢাকায় পশুর হাট বসবে কি না তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় ছিল থাকার কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ। তবে মঙ্গলবার নয়টি জায়গায় কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

২০০৮ সালে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট থেকে সাতটি কোরবানির পশুবাহী ট্রেন পরিচালনা করেছিল রেলওয়ে।

রেলওয়ে এর মধ্যে আম পরিবহনে ম্যাংগো স্পেশাল নামে ট্রেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে পরিচালনা করছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা সহজেই ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে খুবই অল্প ভাড়ায় আম পরিবহন করতে পারছে।

  •  
  •  
  •  
  •