মেঘনা-তিতাসের পানি বিপদসীমার ওপরে

নিউজ ডেস্কঃ

উজানে ভারতের আসামের বরাক নদীর উপত্যকায় পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেঘনা এবং তিতাসের পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে এক থেকে দেড় ফুট পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি বন্যায় রূপ নেবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রঞ্জন কুমার দাস আজ সন্ধ্যায় জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস নদীর চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে তিতাস নদীর নবীনগর পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, সরাইলের আজবপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কুরুলিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার এবং গোকর্ণঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সরাইলের আজবপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।

পাশাপাশি নাসিরনগর উপজেলার চাতল পাড়, গোয়ালনগর, ভলাকুট এলাকার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। তবে বাড়িঘরে এখনো পানি প্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পানি বৃদ্ধির সার্বিক বিষয় নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পানি বৃদ্ধি সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-দৌলা খান বলেন, তিতাস নদীর চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি বৃদ্ধির সার্বিক বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে। সরাইল ও নাসিরনগর এলাকার নিচু এলাকার কিছু গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে বলে আমরা জানতে পেয়েছি। আগাম বন্যার প্রস্তুতি হিসেবে নগদ টাকা এবং চালসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ আছে। বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের টিম প্রস্তুত রয়েছে। বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশের খবর পেলে জেলা প্রশাসনের টিম সেখানে পৌঁছে তাৎক্ষনিক ত্রাণ তৎপরতা শুরু করবেন। ভয়ের কোনো কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, সার্বিক ভাবে প্রস্তুত রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন।

  •  
  •  
  •  
  •