বেড়েছে রাজশাহীর বাজারে মসলার দাম

নিউজ ডেস্কঃ

প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেড়ে যায় মসলার দাম। করোনাকালেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। ঈদের আর কয়েক দিন বাকি। এরমধ্যেই অধিকাংশ মসলার দাম প্রতি ১০০ গ্রামে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া রাজশাহীর নগরীর অধিকাংশ মসলার দোকানে প্রদর্শন করা হচ্ছে না মূল্য তালিকা। এর মাধ্যমে তারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন এমন অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নগরীর সবচেয়ে বড় বাজার সাহেববাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই মসলা দোকান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম নেওয়া হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে অধিকাংশ মসলার দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এতে অনেক ক্রেতাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। দোকানিরা জানান, মসলার দাম সব জায়গায় এক হয় না। কেননা ক্রেতারা সাধারণত মসলা খুব কম পরিমাণেই কিনে থাকেন। এতে কেউ ১ কেজি মসলা এক সঙ্গে কিনলে দাম কম পড়ে। একই মসলা কেউ ১০০ গ্রাম কিনলে দাম কিছুটা বেশি নেওয়া হয়। এই কম-বেশিটা একেকজন একেক রকম নিয়ে থাকে। এতে দেখা যায়, দোকানগুলোতেও ২-৫ টাকা কম বেশি হয়ে থাকে। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকটি মসলার দাম বেড়েছে। বাকিগুলো আগের দামেই আছে। সামনে মসলার দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তারা।

এদিন, প্রতি ১০০ গ্রাম সাদা এলাচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম গোল মরিচ ১৫০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম দারুচিনি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম জিরা ৫০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম কালো এলাচ ১০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনা মরিচ ৩০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিস ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম হলুদ ২০ থেকে ২৪ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম ছিলানো কাঁচাবাদাম ২০ থেকে ৩০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম কালোজিরা ৪০ টাকা, প্রতি ১০০ গ্রাম তেজপাতা ১৫ থেকে ২০ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি এবং রসুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বেশিরভাগ দোকানে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মসলার খুচরা বিক্রেতা জীবন আলী জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মসলার দাম কিছুটা বাড়ে। এবার কয়েকটা মসলার দাম বেড়েছে। মসলা ছাড়া সব কিছুর দামই আগের মতো আছে। তারা এক দামেই মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজীয় পণ্য বিক্রি করেন। সবার কাছে একই দাম। তারা ক্রেতাদের কাছে দাম বেশি চান না। ঈদের আগে মসলার দাম আরও কিছুটা বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নগরীর উপশহর এলাকার ক্রেতা শামসুদ্দিন জানান, প্রতিবছরই ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার দাম বাড়ে। এটা সবাই জানে এবং আলোচনাও হয়। কিন্তু এর তেমন প্রতিকার হয় না। সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে এভাবেই চলতে হয় । সাধারণ মানুষকে নিয়ে কেউ ভাবে না। এখন দাম বাড়াবে। হয়তো প্রশাসন অভিযান চালাবে। কিন্তু বাজার স্বাভাবিক আদৌ রাখতে পারবে এর নিশ্চয়তা নেই। তবে করোনাকালে ব্যবসায়ীদেরকে অনুরোধ জানাতে চাই এ বছর তারা যেন কিছুটা মানবিক আচরণ করে।

এদিকে নগরীর কোর্ট বাজার ও মাস্টারপাড়া বাজারেও হাতেগোনা কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে মূল্যে তালিকা দেওয়া আছে। যাদের অধিকাংশই আবার গত কয়েকদিন আগের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করে নতুন মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন। অনেকে আবার কয়েকটি পণ্যের মূল্যে প্রদর্শন করেই দায় সারছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ বলেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে ছুটির দিন ব্যতীত প্রত্যেকদিন অধিদফতরের পক্ষ থেকে রাজশাহীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দোকানিদের বাধ্যতামূলকভাবে পণ্যের মূল্যে তালিকা সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন জায়গায় প্রদর্শন করতে হবে। কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীরা এই নিয়ম মানছেন না। আমরা যখন অভিযান পরিচালনা করছি তখন তারা দোকানের ভেতর থেকে মূল্যে তালিকা বের করে টাঙিয়ে দিচ্ছে। অনেকে মূল্যে তালিকা আপডেটও করছেন না। আমরা অভিযান পরিচালনা করে আইনভঙ্গকারীদের জেল-জরিমানাসহ সচেতন করছি। তবে ব্যবসায়ীদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব না।

এ ব্যাপারে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল হক জানান, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। আর কোরবানিকে সামনে রেখে আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করে থাকি। এর মাধমে তাদের সচেতন করা হয়। তবে ভোক্তা অধিকারের বিষয়ে আমাদের ভোক্তা, ব্যবসায়ী উভয়কে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া বাজারগুলোতে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেওয়ার জন্যে বুথ করা যেতে পারে। সর্বোপরি সচেতন না হলে এটা নিশ্চিত করা কঠিন।

  •  
  •  
  •  
  •