নতুন চিন্তা ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে একটি নতুন মানবিক বিশ্বে ফেরার আহ্বান

নিউজ ডেস্কঃ

পুরনো নরমালে নয়, নতুন চিন্তা ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে একটি নতুন মানবিক বিশ্বে সবার ফেরার চেষ্টা করা দরকার। এমনটাই মনে করছেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া তাত্ত্বিকরা।
ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অথর্নীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদদের অংশগ্রহণে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারের আয়োজক জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র।

‘ইজ দা পেন্ডেমিক এ পোর্টাল? ভিজ্যুয়ালাইজিং সোশ্যাল স্ট্রাকচার ইন পোস্ট কোভিড এরা’ শীর্ষক এই অনলাইন সেমিনারে সভাপতিত্ব করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল।

ভারতের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত বলেন, ‘করোনা অতিমারি দুনিয়াব্যপাী ক্ষমতাশীল এলিটদের অসামর্থতাকে সবার সামনে তুল ধরেছে। তবে, এই ব্যবস্থার কতটা পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করছে পরিবর্তনকামীদের সক্রিয়তার ওপর।’
পাকিস্তানের সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক তাইমুর রহমান বলেন, ‘কোভিড অতিমারির সময়ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেমে নেই, বরং অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। উদার গণতন্ত্রবাদী মতাদর্শ নানাভাবে নিজেদের অসারতা প্রমাণ করেছে। বরং রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কল্যানমুখী রাষ্ট্র-কাঠামো অধিক কার্যকারিতা দেখিয়েছে। এ অবস্থায় প্রগতিশীল রাজনীতির উত্থানের ওপরই দুনিয়ার ভবিষ্যত নির্ভর করছে।’
বাংলাদেশর সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক মনিরুল আই খান বলেন, ‘কোভিড এর অর্থনৈতিক দিক নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর সমাজতাত্ত্বিক অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা জরুরি।’

আন্তর্জাতিক এই ওয়েবিনারে ভারতীয় লোকসভার প্রাক্তন সদস্য (এমপি) জনার জিতেন্দ্র চৌধুরী, পাঞ্জাবি ইউনিভারসিটি পাতিয়ালার প্রফেসর ড. পরমবীর সিং, কলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের প্রাক্তন পরিচালক প্রফেসর ড. চিত্ত পাণ্ডা, বিহারের পাটালিপুত্র ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. অবিনাশ কুমার ঝাঁ, দক্ষিণ এশীয়ার অবস্তুগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. দেবযানী বোস, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আশা ইসলাম নাঈম ও সহ-সম্পাদক প্রফেসর ড. আকসাদুল আলম-সহ প্রায় ১০০ জন শিক্ষক ও গবেষক উপস্থিত ছিলেন।

প্রশ্নত্তোরের শেষে ধন্যবাদ বক্তৃতা করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তপন মাহমুদ লিমন। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল হেরিটেজ ও বাংলা স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. তানভীর আহমেদ।

  •  
  •  
  •  
  •