করোনা টিকাকেন্দ্রে সরকার বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি নেবে না

নিউজ ডেস্কঃ

সুষ্ঠুভাবে করোনার টিকা দেওয়ার পাশাপাশি টিকার নিরাপত্তা নিয়েও সরকার চিন্তায় আছে। টিকা সংরক্ষণ, পরিবহন ও টিকাকেন্দ্রে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সক্রিয়ভাবে ভাবছে সরকার। এ নিয়ে একাধিক সভায় আলোচনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সাধারণত দেশে বছরজুড়ে চলতে থাকা টিকাদান কর্মসূচিতে আলাদা কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, করোনার টিকার ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা দরকার। টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ আছে। দেশে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা আসার সংবাদে আগ্রহ আরও বাড়ছে। তাই মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে গতকাল শনিবার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও টিকা দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। এই প্রস্তুতির মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়টিও আছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, সরকার টিকাকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি নেবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গতকাল বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে টিকাসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। এ নিয়ে আগামী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সভা হওয়ার কথা আছে।’

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তিনটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে—টিকা রাখার জায়গা, টিকা পরিবহন ও টিকাদান কেন্দ্র। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিন্তা টিকাদান কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে।

প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশে টিকা আসবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে। ওই টিকা আনবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা টিকা প্রথমে তাদের সংরক্ষণাগারে রাখবে। দুই দিন পর তা তারা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেবে। সেখান থেকে টিকাকেন্দ্রে বা উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

১১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর শামসুল হক বলেছিলেন, সারা দেশে ৭ হাজার ৩৪৪টি কেন্দ্রে করোনার টিকা দেওয়া হবে। একটি কেন্দ্রে দুজন টিকাদানকারীর সঙ্গে চারজন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

করোনার টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, টিকাকেন্দ্র নিয়ে চিন্তা কিছুটা বেশি। প্রতিটি কেন্দ্রেই মানুষের ভিড় হতে পারে। এই ভিড় নির্বিঘ্নে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভিড় বেশি হওয়ার আশঙ্কা বেশি ঢাকা শহরে। রাজধানীতে প্রায় দুই কোটি মানুষের বাস। অন্যদিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন, এমন মানুষের সংখ্যাও এখানে বেশি। ঢাকা শহরের ৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে টিকাকেন্দ্র করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ২০টি বিশেষায়িত হাসপাতালে কেন্দ্র করা হবে। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, বিজিবি হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও টিকাকেন্দ্র করা হবে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এই তালিকা চূড়ান্ত হয়নি।

অতিসম্প্রতি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিন সেখানে ভিড় জমে। এর মধ্যে করোনার টিকাদান শুরু হলে সেই ভিড় আরও বেড়ে যাবে। বাড়তি নিরাপত্তাসহায়তা না পেলে দুজন টিকাদানকর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবকের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে টিকা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে অনেকেই মনে করেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও সরকারের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ  বলেন, ভিড়ের কারণে টিকাকেন্দ্রে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে টিকাদানকারীর ওপর চাপ পড়বে। তাঁরা সুষ্ঠুভাবে টিকা দিতে পারবেন না। বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। একবার বিশৃঙ্খলা হলে পরবর্তী সময়ে অনেকেই টিকাকেন্দ্রে আসা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

২৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করোনার টিকা ব্যবহারের পরিকল্পনাসংক্রান্ত সভায় আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, ওই দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা বলেছিলেন, টিকা দেওয়ার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার প্রয়োজন হবে। ওই সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার একটিতে বলা হয়, যেদিন টিকা দেওয়া হবে, সেদিন টিকাকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে।

টিকার নিরাপত্তা বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি কমিটি করেছে সরকার। ১১ জানুয়ারি টিকার নিরাপত্তা বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে ওই দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। আগামী মঙ্গলবার এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •