পাথর দিয়ে ভাগ্যবদল

নিউজ ডেস্কঃ

হরেক বর্ণের পাথর যেন এক একটি জীবন্ত প্রাণ। চাঁদনী ঘাটের শীতল হাওয়া আর সূর্যের আলো গায়ে মেখে একাগ্র চিত্তে পাথরের বুক খনন করে চলেছেন চার কর্মী। শক্ত বুকে নানা আকৃতির ফুল ফোটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাথর-কর্মী জয়নাল মিয়া। তিনি জানালেন নানা আকৃতির পাথর সুন্দর পরিপাটিভাবে কেটে দিলে এক একটি পাথরের জন্য পারিশ্রমিক পান ৫০ থেকে ১০০ টাকা। দিনভর এই পারিশ্রমিকে পাঁচ-ছ জনের সংসার বেশ ভালোভাবেই চলে। বহুদিন ধরে শিলপাটা কাটার কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাভাইরাস দেশে আসার পর প্রথম দিকে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। তখন সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে।

সিলেট শহরের খ্যাতনামা চাঁদনী ঘাটের ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন শিলপাটার দোকানঘর। কোনো শিলপাটার আকৃতি ছোট, কোনোটি মাঝারি আবার কোনোটি বড়। গৃহস্থালির আনুষঙ্গিক পণ্যের মধ্যে শিলপাটা অন্যতম প্রধান একটি। যা দ্বারা মুখরোচক খাবারের মসলা তৈরি করা হয়। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি বাজারজাত হচ্ছে। তবু কমেনি শিলপাটার চাহিদা। কেননা শিলপাটায় গুঁড়ো মসলায় তৈরি খাবার মজাদার। তাই এই চাঁদনী ঘাটের শিলপাটা পাইকারি দামে কিনে নিয়ে যান সুনামগঞ্জ, ছাতক, জুড়ি, বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা। শিলপাটার এক একটির দাম ২০০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত।

শিলপাটার পাথর সংগ্রহ করা হয় সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারি থেকে। সেখান থেকে ক্বীন ব্রিজের চাঁদনী ঘাটের শিলপাটা তৈরি কারখানায় নিয়ে এসে পাথর-কর্মীদের দিয়ে পাথরের বুকে ফুল ফোটানো হয়—জানালেন দক্ষিণ সুরমা খালের পাড়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, এই শিলপাটার চাহিদা ব্যাপক। দূরদূরান্ত থেকে বড় বড় ব্যবসায়ী এসে আমার দোকানঘর থেকে শিলপাটা কিনে নিয়ে যান পাইকারি দামে। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে শিলপাটার ব্যবসা করছি। এর আগে আমার বাবা-দাদারাও করেছেন। বলা যায়, এটা আমাদের বংশগত ব্যবসা। এক সময় এই ব্যবসা থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হতো। কিন্তু এখন কিছুটা কমেছে। কেননা মহামারি করোনাভাইরাসের জন্য দোকান কিছুদিন বন্ধ ছিল। যার কারণে কাজ করতে পারিনি। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিলপাটা তৈরির ব্যবসা শুরু করেছি।

 

  •  
  •  
  •  
  •