দেশে কমতে শুরু করেছে সংক্রমণের হার

নিউজ ডেস্কঃ

দেশে শীতের মৌসুমে করোনার সংক্রমণ বাড়বে বলে আশঙ্কা ছিল। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সে আশঙ্কা দূর করে চলতি বছরের প্রথম মাস থেকেই কমতে শুরু করেছে সংক্রমণের হার।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের হার কমছে, এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু আশঙ্কা ছিল শীতে মানুষ পরীক্ষা করাবে বেশি। সেটা হচ্ছে না। আত্মতুষ্টিতে সব ছেড়ে দিলে বিপদ হবে। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়তে সময় নেবে না। একইসঙ্গে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। আর পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে করোনা-পরীক্ষা বিনামূল্যে করার পক্ষে মতামত দিয়েছে কমিটি।

শনাক্তের হার কেন কমছে এটা কৌতুহলের বিষয়। এমনটা জানালেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে সবকিছু চলছিল এখনও সেভাবেই চলছে। ট্রেসিং-টেস্টিং, আইসোলেশন-কোয়ারেন্টিন সবই আগের মতো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমন কোনও পদক্ষেপ নেই যে রোগী কমে যাবে। তবে এটা যে কেবল বাংলাদেশে, তা নয়। নেপাল, ভারত বা আমাদের মতো যেসব দেশে বেশি শীত পড়ছে না, সেসব দেশে সংক্রমণ কমছে জানিয়ে অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ। যেহেতু রোগী কমেছে, এই ফাঁকে বাকি পদক্ষেপগুলো জোরদার করা যায়। এই সুযোগে সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা যাবে।

দেশে ২০ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৫ জন। নতুন শনাক্ত ৬১৯ জন। মোট মারা গেছে সাত হাজার ৯৮১ জন। শনাক্ত পাঁচ লাখ ৩০ হাজার ৮৯০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এই সময়ের মধ্যে নমুনা নেওয়া ১৪ হাজার ৯২৪টি আর পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪৬টি। এখন পর্যন্ত দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ২৭৪টি।

মাঝে মাঝেই সংক্রমণের হার পাঁচের নিচে চলে যাচ্ছে। এটা খুবই ভালো লক্ষণ, এমন মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মৃত্যু কমছে না। মৃত্যুর সঙ্গে মেলালে বোঝা যায়, যাদের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই প্রবাসী। তাদের বেশিরভাগেরই নেগেটিভ আসছে। যার জন্য সংক্রমণের হার কম দেখাচ্ছে। যাদের পরীক্ষা হচ্ছে তার বাইরে অনেক মানুষের পরীক্ষা হচ্ছে না, যাদের মধ্যে সংক্রমিত আছেন।’

তাই আপ্লুত হবার কিছু নেই বলে জানান তিনি। আরও অনেককে যদি পরীক্ষার আওতায় আনা যেত তাহলে সংক্রমণের হার নিশ্চিতভাবে বাড়তো বলে জানান আবু জামিল ফয়সাল।

এদিকে, ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ চালু হওয়ার পর থেকেই সংক্রমণের হার কমছে বলে মন্তব্য করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় মানুষ এখন মাস্ক পরছে। শতকরা ৯০ শতাংশ সুরক্ষা এই মাস্ক দেয়। কিন্তু মাস্ক ছাড়লেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করবে।

  •  
  •  
  •  
  •