শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

নিউজ ডেস্কঃ

নোট ও গাইড বই ছাপা, প্রকাশ ও বিপণন নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে শিগগিরই শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেটে পড়াতে পারবেন না। একইসঙ্গে শিক্ষকরা যাতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি না দেন এবং মানসিক নিপীড়ন না করেন, সেই কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়।

গতকাল বিকেলে একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, আইনটির খসড়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তাদের আলোচনা করা দরকার।

তারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।

গতকালের বৈঠক শেষে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা আইনের প্রাথমিক খসড়াটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে আলোচনা করছি।’

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খসড়া আইনটিতে নোট ও গাইড বই ছাপা, প্রকাশ ও বিপণনের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নোট ও গাইড বই কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষা সহায়ক বই প্রকাশের অনুমতি দেবে সরকার।

খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা সহায়ক বই কেনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন, তাহলে সেটি অসদাচরণ বলে বিবেচিত হবে এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, স্কুলগুলো দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবে। তবে, সেক্ষেত্রে পিতামাতার লিখিত অনুমতি নিতে হবে। সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি বা নীতিমালা কিংবা নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্কুলের নির্ধারিত ক্লাসের সময়ের আগে কিংবা পড়ে অতিরিক্ত ক্লাসগুলো নিতে হবে।

চাকরিপ্রত্যাশী, ভর্তিচ্ছু শির্ক্ষাথী কিংবা ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহীদের সহায়তা করতে যে কোচিং সেন্টারগুলো আছে, সেগুলো এই আইনের আওতায় পড়বে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

খসড়া আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের দৈহিক শাস্তি দিতে পারবেন না এবং মানসিকভাবে কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবেন না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে যাতে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই বিধানও রয়েছে।

২০১০ সালের শিক্ষানীতির সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষানীতি সঠিকভাবে প্রণয়নের জন্যে শিক্ষা আইন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে শিক্ষানীতিতেই।

২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কমিটির সাব-কমিটিকে একটি খসড়া আইন করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: