দুর্নীতির মামলায় জেলে যাবেন এমপি হাজী সেলিম

hazi

নিউজ ডেস্কঃ দুর্নীতির মামলায় জেলে যাবেন ঢাকা-৮ আসনের সরকার দলীয় এমপি হাজী সেলিম। বুধবার (১০ মার্চ) প্রায় ২৭ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছরের সাজা বহাল থাকার পর জেলে যেতে হচ্ছে আলোচিত এই এমপিকে।

হাজী সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, আমরা রায়টা হাতে পেয়ে কোর্টে আত্মসর্মপণ করব। এরপর সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে আপিল বিভাগে লিফট আপিল ফাইল করব। উনাকে কারাগারে জেতে হবে। সে সময়ে তার শারীরিক বিষয়গুলো রয়েছে। আইনে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই খালাস চেয়ে আপিল করা হবে।

দুদক অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, সম্পদের তথ্য গোপনের দায় থেকে খালাস দেয়ায় তারাও সংক্ষুব্ধ। প্রস্তুতি নিচ্ছন তার সাজা বাড়ানোর আপিল করার।

এদিকে হাজী মো. সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল থাকায় তিনি সাংবিধানিকভাবে সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

খুরশিদ আলম খান বলেন, সংবিধানের ৬৬ (২ এর ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে যদি কেউ নৈতিক স্খলনের দায়ে দুই বছর বা তার বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য হবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, হাজী সেলিম যেহেতু দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, তাই এটা তাঁর নৈতিক স্খলন হয়েছে। তাই সাংবিধানিকভাবে তিনি সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাদ হয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার। হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পর দুদকের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদক মামলা করে। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ১০ বছর ও তথ্য গোপনের দায়ে তিন বছরসহ মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত।

২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তাঁর সাজা বাতিল করেন।

পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

এর পর গত বছরের ১১ নভেম্বর এ মামলার বিচারিক আদালতে থাকা যাবতীয় নথি (এলসিআর) তলব করেন উচ্চ আদালত। সে আদেশ অনুসারে নথি আসার পর আপিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি এই মামলায় পুনরায় শুনানি শুরু হয়।

  •  
  •  
  •  
  •