চীনে করোনা ভাইরাসের মহামারী ও আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

ড. মোঃ সহিদুজ্জামান:

করোনা ভাইরাস বায়ুবাহিত ভাইরাস যা প্রাথমিকভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখির শ্বাসযন্ত্রের উপরিভাগ এবং অন্ত্রে সংক্রামিত হয়। এ গোত্রের ভাইরাসের (সার্স- সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) উৎপত্তি চীনে। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে দু’বার এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং আট হাজারের বেশি আক্রান্তের মধ্যে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়। মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে ২০০৪ সালের পরে আবার নতুন এক ভাইরাসের সংক্রমন দেখা দিয়েছে চীনে। একই গোত্রের এই ভাইরাসটির জীনগত কিছুটা পার্থক্য থাকায় এর নাম দেয়া হয়েছে নোবেল করোনা ভাইরাস। এর আগে ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে একই গোত্রের আরেকটি ভাইরাসের আক্রমন হয়েছিল সেটার নাম দেয়া হয়েছিল মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম ভাইরাস)।

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি প্রাণী থেকে। পশুপাখি বা স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। নতুন এ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলছেন খাটাশ জাতীয় বিড়াল থেকে ভাইরাসটি এসেছে। তবে এটিও সার্স ও মার্সের মত বাদুরের সঙ্গে সম্পর্কিত। চীনা ক্রেইট এবং কোবরা সাপ নতুন এই ভাইরাসটির মূল উৎস হতে পারে যা জীনগত তথ্য বিশ্লেষন করে পাওয়া গেছে।

যেখানে ইবোলা, নিপাহ, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু বিশ্ববাসীকে আতংকিত করে রেখেছে সেখানে নতুন করে চীনে এই করোনা ভাইরাসের আক্রমন বিশ্ববাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। চীনের বাইরে আরো ১৩টি দেশে ইতমধ্যে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে কোন আক্রান্তের খবর এখনও পাওয়া যায়নি, যেমনটি পাওয়া যায়নি ভারতেও।

নতুন করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীতে তিন হাজারের অধিক করোনা ভাইরাস রয়েছে। এর মধ্যে নতুনটি সহ এ পর্যন্ত ৭ টি করোনা ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে বলে জানা গেছে। নতুন এ ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ৩ শতাংশ তবে ঠান্ডার কারনে মৃত্যুর হার কিছুটা বেড়েছে। যেখানে মৃত্যুর হার সার্স এ ১০ শতাংশ এবং মার্স এ ৩৪ শতাংশ। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিতে মৃত্যুর হারও কম নয়। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার চিকিৎসাধীন ক্ষেত্রে ২-৫ শতাংশ তবে চিকিৎসা ছাড়া ২০ শতাংশের অধিক। চিকুনগুনিয়াতে ৯.৫ শতাংশ, বার্ড ফ্লুতে মৃত্যুর হার মানুষে ৬০ শতাংশ, নিপাহ-তে ৭৫ -৯০ শতাংশ, ইবোলা-তে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষেত্রবিশেষে হয়ে থাকে।

আমরা বছর জুড়ে ভুগে থাকি জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে। বাড়িতে বাড়িতে যেন থাকে জ্বরের মাতম। এগুলো শুধু ইনফ্লুয়েঞ্জা নাকি অন্য কোন ভাইরাস দ্বারা হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে মৃত্যুর হার ১ শতাংশের কম (বিশ্বে প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রতিবছর মারা যায়) তবে প্রতিকুল আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত সমস্য, বয়স (শিশু ও বৃদ্ধ) এবং চিকিৎসাহীন অবস্থাগত কারণে এ মৃত্যুর হার বেড়ে যায় যেটি করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য। তবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন প্রতিষেধক (টিকা) না থাকায় এটি সাধারণ জ্বরের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগের এবং আশংকার। নতুন এ ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা (জীবানু প্রবেশ থেকে লক্ষন প্রকাশ বা শরীর থেকে বেড় হওয়া পর্যন্ত সময়কাল) সাধারণত ২-৫ দিন তবে ক্ষেত্রবিশেষে ১৪ দিন পর্যন্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণ প্রকাশের আগেও জীবাণু ছড়াতে পারে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ ও বন্য প্রানীর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ, তাদের প্রকৃতি ও পরিবেশে হস্তক্ষেপ, অবৈজ্ঞানিক গৃহপালন ও ভক্ষন মানবসম্প্রদায়কে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ নতুন এই করোনা ভাইরাস সহ সার্স, মার্স, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। চাইনিজদের খাদ্যাভাস এসব রোগে আক্রান্তের কারণ। সরীসৃপ, ব্যাঙ, শূকর, বেজি, বন বিড়াল, খাটাস, শেয়াল, ইঁদুর এসব প্রাণী প্রকৃতিতে অনেক রোগ জীবানু বহন করে। এগুলোকে যখন গৃহপালিত করা হয় বা ভক্ষন করা হয় তখন তারা মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখির মধ্যে সহজেই রোগ জীবানু ছডিয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে এসব প্রাণী থেকে কোন ভাইরাস মানুষ বা গৃহপালিত পশুপাখিতে প্রবেশ করে বংশবিস্তার করতে না পারলেও পরবর্তীতে জীনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেয় এবং বংশবিস্তার শুরু করে রোগ সৃষ্টি করে। মানুষ বা গৃহপালিত পশুপাখিতে আক্রমনের উপযোগী হওয়া এসব ভাইরাস তখন তান্ডব চালায় মানবসম্প্রদায়ে।

মাছ ও পশুপাখির নাড়ি-ভুড়ি বা উচ্ছিষ্ট অংশ রোগ জীবাণুর বড় উৎস। অথচ কসাইখানা বা মাংস ও মাছ বিক্রির জায়গাগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এগুলো ফেলে রাখা হয় যা কুকুর বিড়াল, শিয়াল, বেজি, খাটাস, ইদুর সহ বিভিন্ন মাংসাশী প্রাণী এগুলো খেয়ে জীবাণু পেতে পারে। ড্রেইন বা পয়ঃনিষ্কাশনের মাধ্যমে বা বৃষ্টির পানিতে গড়িয়ে পুকুর, ডোবা, নালা ও ক্ষেত খামারে চলে যেতে পারে। যেগুলো থকে পরবর্তীতে মানুষ, পশুপাখি, মাছে বা সাপের সংক্রমিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে সার্কভুক্ত দেশগুলো বাদুড়সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী ও মশাবাহিত রোগ বালাইয়ের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অধিক জনসংখ্যা, খাদ্যাভাস, অস্বাস্থকর পরিবেশ, প্রাণীর সাথে নিবিড় সম্পর্ক, বন্যপ্রাণীর প্রকৃতি ও পরিবেশে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও গৃহপালন, খোলাবাজারে হাঁস-মুরগি ও প্রাণী বিক্রি, মশার প্রজনন পরিবেশ ঝুঁকির প্রধান কারণ বলে বিবেচিত। এছাড়া উন্নত বর্ডার স্ক্রিনিং ও সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা নেই।

অনেক ভাইরাস বাদুড়ের শরীরে রোগ সৃষ্টি ছাড়াই বসবাস করে অর্থ্যাৎ বাদুড় বিভিন্ন ভাইরাসের আধার হিসেবে কাজ করে। নিপাহ, ইবোলা, সার্স, মার্স, জলাতংক সহ অনেক ভাইরাস বাদুড় থেকে অন্য প্রাণী বা মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে। বাদুড়ের খাদ্যাভাস, বাসস্থান, চলাচল ও জৈবিক অবস্থা অনেক এর জন্য দায়ী। এছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে বাদুড়ের প্রজনন বেড়ে যাওয়া ও বন উজার বা তাদের অভয়ারণ্য কমে যাওয়া মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখির বিচরনের জায়গায় তাদের বিচরনও বেড়েছে যার ফলশ্রুতিতে বাদুড়বাহিত রোগজীবানুর সংক্রমনও বাড়ছে।

শুধু সার্স বা করোনা ভাইরাস নয় মানবদেহের রোগবালাইয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে পশুপাখি ও জলজ প্রাণী থেকে। অস্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রি, ক্রেতাদের সতেজ বা তাজা মাংসের প্রতি আগ্রহ, প্রানির সাথে নিবিড় সম্পর্ক বা সংস্পর্শ নতুন নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব প্রাণীর সংরক্ষণ, উৎপাদন ও ভক্ষনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে সেখানে খোলাভাবে গবাদী পশুপাখি জবাই ও বিক্রির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। মলমূত্র বা বিষ্টা নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। খোলা বাজারে মাছ ও মাংসের বিক্রির জায়গাগুলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। দেশের হাট বাজারগুলোতে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকি থাকা প্রয়োজন। সরকারের আধুনিক স্লোটার হাউজ বা কসাইখানা তৈরির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকে তরান্বিত করতে হবে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও সংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে যে কোন সংক্রমিত রোগের প্রাদুর্ভাব বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তাই আমাদের সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

চীনে ভ্রমন আপাতত নিয়ন্ত্রিত রাখা উচিত এবং চীন থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা এবং মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভ্রমণের সময় যাত্রীদের সাধারণ স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র সরবরাহ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসিয়ে যাত্রীদের মনিটরিং করার কথা বলা হলেও গবেষণায় দেখা গেছে, থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে একটি দেশে ভাইরাল ফিভারের কোনো ব্যক্তিকে সঠিকভাবে শনাক্তকরণ এবং প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, তাই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আলাদা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

করোনা ভাইরাস সনাক্ত করতে আরটি পিসিআর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তবে ইমিউনোলজিকাল কিট ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়। আমাদের দেশে তা করা হচ্ছে কিনা সেরকম কোন তথ্য মিডিয়াতে আসেনি। তা না করে শুধু থার্মাল স্কান করে নিশ্চিত বলা যাবে না। সমস্যা চিহ্নিত হলে তা অবহেলা না করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাটাই উত্তম।

বিপন্ন, বিরল ও সুরক্ষিত প্রজাতির শিকার ও বিক্রয় নিষিদ্ধের পাশাপাশি বন্য প্রাণীর পরিবেশে অযাচিত হস্তক্ষেপ, ব্যবহার, গৃহপালন ও ভক্ষণ বন্ধ করতে হবে। চাইনিজদের খাদ্যভাস পূরণে হোটেল বা রেস্টুরেন্টে এসব প্রাণী সরবরাহ না হয় সেদিকে খেয়াল বা সতর্ক থাকতে হবে।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে এসব ভাইরাস থেকে। মাস্ক ব্যবহার, হ্যান্ডশেক (করমর্দন), দিনে কয়েকবার হাত মুখ ধৌত করা- এসব জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। নিজের জীবাণু যাতে অন্যরা না পায় সেজন্য জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাবধান থাকতে হবে এবং অন্যকে সাবধান করে দিতে হবে।

আমাদের দেশে বর্তমানে ভাইরাস জ্বর একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মৌসুমি জ্বরকে শুধু সাধারণ জ্বর বা ফ্লু হিসেবে বিবেচনা না করে প্রকৃত জীবানুর অনুসন্ধান প্রয়োজন। প্রয়োজন জ্বরের প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করা। আক্রান্ত রোগীর দেহে যে ভাইরাস রয়েছে তাদের জিনগত বৈচিত্র নিরূপন করা প্রয়োজন। রিএসোর্টেড বা সঙ্কর ভাইরাস আছে কিনা, থাকলে তা কোন প্রজাতির তার সনাক্তকরণ প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ ও পশুপাখির স্বাস্থ্যকে আর আলাদা করে না দেখে ”এক স্বাস্থ্য বা ওয়ান হেলথ” হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে। স্বাস্থ্য, প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয় সহ সংশিষ্ট সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নতুন নতুন রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিবে। পশু ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হবে।

বাদুড়ের গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষনে ট্রাকার ব্যবহার করা যেতে পারে। মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখির আবাসস্থলে বাদুড়ের বিচরণ নিয়ন্ত্রনে তাদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করতে হবে। বাদুড়ে বিদ্যমান জীবাণুর সনাক্তকরণ, জীনগত বিশ্লেষন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সার্কভুক্ত দেশগুলো সম্মিলিতভাবে একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংক্রামক রোগজীবাণু শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব এবং মনিটরিং বা সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তাহলে এই অঞ্চলে বাদুড়বাহিত বিভিন্ন রোগজীবানুর সংক্রমন বা মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

যে কোন রোগের প্রাদূর্ভাব ঠেকাতে বা নিয়ন্ত্রনের পূর্বশর্ত হল সঠিক সময়ে রিপোর্টং করা, গুরুত্বসহকারে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিস্তর অনুসন্ধান করা, তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া এবং সেই অনুযায়ী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াাদি পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ন।

_____________________________

ড. মোঃ সহিদুজ্জামান
অধ্যাপক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
ই-মেইলঃ szaman@bau.edu.bd

  •  
  •  
  •  
  •