বাংলার কৃষকের দুঃস্বপ্ন হয়ে না আসুক ‘পঙ্গপাল’

কৃষিবিদ কামরুল হাসান কামু:
হাজার বছরের পুরানো পতঙ্গ পঙ্গপাল।ফেরাউনের শাসনামলে মিশরে এই পতঙ্গের আক্রমণে দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো, সেখানে সবুজের কোন চিহ্ন ছিলোনা। ঘাসফড়িঙ জাতের এই পতঙ্গ একাকী খুব নিরীহ হলেও দলবদ্ধ পতঙ্গ এতোটাই আগ্রাসী যা অল্পদিনের ব্যবধানে হাজার মাইলের মধ্যে সব বৃক্ষ ও ফসলের সবুজ পাতা খেয়ে শেষ করে দিতে পারে।প্র তিদিন এরা বাতাসের ওপর ভর করে ১২০-১৫০ মাইল পথ পাড়ি দিতে পারে।

জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) এর তথ্যানুসারে, এক বর্গকিলোমিটার আকারের পঙ্গপাল এক সঙ্গে যে খাবার খায় তা দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো সম্ভব। মরুভূমির আবহাওয়া প্রিয় এই পতঙ্গ ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশকে দুর্ভিক্ষের কবলে ফেলেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরব, ইসরাইল, পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। যদিও বাংলাদেশে এর আক্রমণ কখনো হয়নি তবুও পার্শ্ববর্তী দেশ যেহেতু আক্রান্ত হয়েছে সেহেতু বাংলাদেশও ঝুঁকির মধ্যে আছে। বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের ছোঁয়া বাংলাদেশের কৃষিতেও পড়েছে। দেশের শুষ্ক ও খরাপ্রবন এলাকা গুলোতে মরুভূমির আবহাওয়া কিছুটা বিরাজ করছে; সে অনুসারে যদি কখনো আমাদের দেশে পঙ্গপাল আক্রমণ করে তবে ঐ সমস্ত এলাকা আক্রান্ত হতে পারে। যাযাবর প্রকৃতির এই পতঙ্গ যেখানে আক্রমণ করে সেখানকার খাদ্য শেষ করে অন্য দিকে গমন করে। এদের গমন প্রকৃতি বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে যা উষ্ণতার সাথে সম্পর্কিত।

বিজ্ঞানের এই যুগে এসেও পঙ্গপাল দমনের কোন কার্যকরী পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। আক্রান্ত দেশগুলো উড়োজাহাজ থেকে কীটনাশক স্প্রে করেও কার্যকর ফল পায়নি। ইতিহাসের এই ভয়ঙ্কর পতঙ্গের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে এবং পঙ্গপালের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকানোর জন্য জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) এর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

এই শতাব্দীতে বিশ্ব নানান সংঘাত ও বিপর্যয়ের মধ্যে পঙ্গপালের মতো দুর্ভিক্ষ সৃষ্টকারী পতঙ্গের মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি কৃষি ভিত্তিক দেশ। দেশের কৃষি এখন ঊর্ধ্বমুখী। এই বাংলায় পঙ্গপাল দুঃস্বপ্ন হয়ে কৃষকের ঘরে না আসুক, এটাই কামনা করি।

_________________________
লেখক:
কৃষিবিদ কামরুল হাসান কামু
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২

  •  
  •  
  •  
  •