ব্যাকটেরিয়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি

নাদিম মাহমুদ:
জোনাকি পোকার কথা সবার নিশ্চয় মনে আছে। রাতের বেলায় এই পোকায় যে আলো দেয় তাকে আমরা লুসিফেরেজ বা জীবন্তরশ্মি বলি। মূলত এই প্রোটিন যখন আর একটি রাসায়নিক উপাদান (লুসিফেরিন) সংস্পর্শে আসে তখন এনজাইম বিক্রিয়ার অনুসরণে আলোকরশ্মি বিচ্ছূরিত করে।

শুধু জোনাকি পোকা নয়, অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী এমনকি মাসরুম এই ধরনের জীবন্তরশ্মি বিচ্ছূরণ করে। আর এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা ল্যাবরেটরিতে প্রোটিন ইঞ্জিনিয়ারিং করে যাচ্ছি, যা দিয়ে কোষের ভিতরের কার্যাবলি স্টাডি করার সুযোগ পাচ্ছি।

যাই হোক, আর ভিতরে না যাই। আর কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন। তাই মুজিববর্ষে ফ্লুরোসেন্ট প্রোটিনের তৈরি বঙ্গবন্ধুর এই প্রতিকৃতি।

রং তুলি নয়, টুথপিকের মাথায় ব্যাকটেরিয়াকে নিয়ে লুরিয়া ব্রথ বা আগারপ্লেটের উপর বঙ্গবন্ধুকে ফুটে তোলা ছিল আমার জীবনের প্রথম কোন আগারআর্ট।

এই আগারপ্লেটকে যখন আমরা অতিবেগুনী রশ্মি বা ইউভি আলোর নীচে ফেলি তখন ব্যাকটেরিয়া তথা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্বীয় আলোয় প্রজ্বলিত হয়। ব্যাকটেরিয়ার ভিতর থাকা ফ্লুরোসেন্ট প্রোটিন উদীপ্ত হয়, তখনই আলোকরশ্মি বিচ্ছূরিত হয়। লেজারশোর পরিবর্তে বায়োলজিক্যালরশ্মিতে তিনি জ্বলছেন।

খোকার এই জন্মদিন যে বাংলাদেশেরই জন্মদিন। একজন ক্ষুদ্র গবেষক হিসেবে জন্মদিনে এই সৃষ্টিটুকু দেয়া ছাড়া আমার দেয়ার মত কিছুই নেই। স্মৃতির পাতায় এইভাবে সর্বদা দীপ্তিমান থাকুন।

____________________________
নাদিম মাহমুদ
ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত, জাপান।

  •  
  •  
  •  
  •