করোনা টেস্ট ও আগ্রাসনের ব্যাপকতা

ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন

বাংলাদেশের লোক সংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। ইতোমধ্যে করোনা প্রায় সব কটি জেলাতে ছড়িয়ে পরেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, করোনার আগ্রাসনের ব্যাপ্তি সম্পর্কে কোন ধারনাই আমরা করতে পারছি না। আক্রান্তের বিস্তৃতি ও প্রতিদিন টেস্টের যে সংখ্যা তা দিয়ে আমরা কেউ কোন ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারছি না, আমরা কোন্ অবস্থায় আছি। আজকের খবরে জানা গেলো এ যাবত বাংলাদেশে প্রতি ১ মিলিয়ন (দশ লক্ষ) মানুষের মধ্যে প্রতিদিন টেস্ট করা হচ্ছে মাত্র ২০৬ জন। তাও আবার এই টেস্টগুলো প্রায় সবই শহর কেন্দ্রিক। এ যাবত টেস্টের সংখ্যা যত বাড়ছে তত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রথম থেকেই টেস্ট নিয়ে তেমন কোন পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছিল না। “সব ঠিক আছে” বলে বলে পরিস্থিতি আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। প্রমানিত হচ্ছে আসলে কিছুই ঠিক ছিল না।

পত্রপত্রিকার তথ্য ও দৃশ্যমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কোভিড হাসপাতাল যা আছে তাতে অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা। ভেজাল ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) সরবরাহের কারনে ডাক্তার নার্স আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। টেস্টের জন্য অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা। অপ্রতুল ভেন্টিলেটর, এমনকি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। সবার জন্য তো দুরের কথা সন্দেহভাজনদেরও টেস্ট করা প্রায় ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। টেস্ট যেটুকুই বা হচ্ছে রিপোর্ট পেতে অধিক বিলম্ব হচ্ছে। আক্রান্তকারীরা ঘুরে ঘুরে অনেকেই দিশেহারা কোথাও ভর্তি হতে পারছে না। জেলা শহরগুলোতে প্রায় সকলই এখনো অরক্ষিত।

বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে জনসংখ্যার অনুপাতে যে পরিমানে টেস্ট হচ্ছে আমাদের তা হচ্ছে না। কানাডার ক্যুবেক প্রদেশে যেখানে লোক সংখ্যা ৮০ লক্ষের অধিক সেখানে প্রতিদিন পনের হাজারের বেশি মানুষের টেস্ট করা হচ্ছে। দেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের টেস্ট করা না গেলে করোনার আগ্রাসনের চেহারা বুঝা যাবে না এবং সঠিক কার্যক্রম গ্রহণ করাও দূরূহ হয়ে পড়বে। কানাডায় PCR ভিত্তিক Rapid test এর ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে সময় লাগে ৩০ মিনিট। আসলে যে করেই হোক Rapid test এর ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে করোনা একটি দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যা। কাজেই যে পদ্ধিতেই হোক জুরুরী ভিত্তিতে পর্যাপ্ত টেস্টের ব্যবস্থা আশু প্রয়োজন।

এখন কেবলই মানুষের জীবন রক্ষা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে জীবন বাঁচলেই জীবিকার প্রশ্ন আসে। জীবনের বিনিময়ে যেন জীবিকা না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একই সাথে কৃষি পন্য (ধান- শস্যাদি, দুধ ডিম মাংস ব্রয়লার ও মাছ) উৎপাদন যাতে কোন অবস্থাতেই ব্যহত না হয় সে বিষয়ে কাল বিলম্ব না করে প্রায়োগিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এই মূহুর্তে করোনা ও দুর্ভিক্ষ থেকে মানুষের জীবন রক্ষাই প্রথম জরুরী কাজ। মানুষ বাঁচলেই বাঁচবে ব্যবসা-বানিজ্য, বাঁচবে দেশ।

লেখক: ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন
সাবেক উপাচার্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রফেসর, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহ

  •  
  •  
  •  
  •