না ফেরা দেশে চলে গেলেন বাকৃবির বিজ্ঞানী রঞ্জু ভাই

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মাদ দীনু :

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের (৯১-৯২) গ্রাজুয়েট বাকৃবির গোল্ড মেডেলিস্ট অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্নানামধন্য মৎস্য বিজ্ঞানী আমাদের প্রিয় মুখ ড. শহিদুল ইসলাম রঞ্জু ভাই ১৩ মে ২০২০ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ণ হসপিটালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহে… রাজিউন)। মরহুম এর জানাজার নামাজ ও দোযা মাহফিল ১৪ মে ২০ অস্ট্রেলীয়ার মেলবোর্ন এ দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে!

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ১৯৯১-৯২ শিক্ষা বর্ষের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আমাদের প্রিয় শহীদুল ইসলাম রঞ্জূ লিভার ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন । সে ছিল আমাদের বাকৃবির আবাসিক হল ফজলুল হক হলের মেধাবী ছাত্র । শিক্ষা জীবনে তিনি অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষাতে ডিসটিংগুয়েশনসহ প্রথম শ্রেনীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে সে জাপান থেকে পিএইচডি করে অস্ট্রেলিয়ায় স্হায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ল্যাট্রব ইউনিভার্সিটিতে সে সুনাম ও দক্ষতার সাথে গবেষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার তেরাঙ্গনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার ও সহকারী প্রফেসর হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেছেন। পরে বাকৃবির মেধাবী মুখ রঞ্জু জার্মানী একটি ইনস্টিটিউটে ও জাপানের কুয়েটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসাবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।
বেশ কয়েক বছর ধরে কঠিন অসুখে পরে মেধাবী এই মানুষটি । জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ পতন ঘটতে থাকে আস্তে আস্তে। অসুথের সাথে যুদ্ধ করে করে গতকাল পর্যন্ত টিকে ছিল সে।আজ ১৩ মে ২০২০ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে চলে গেছে না ফেরার দেশে।

বছর খানেক আগে রঞ্জু ভাই যখন কঠিন অসুস্থ, চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে পরিবারটি হিমসিম খাচ্ছিল তখন তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানিয়েছিল বাকৃবির এক স্যারের কাছে রঞ্জু ভাই এর কিছু টাকা পাওনা আছে (বানিজ্যিক বিনিয়োগ) আমি যেন যোগাযোগ করে দেই টাকাটা তাদের খুব দরকার ছিলো তখন। আমি তখন একাধিক বার যোগাযোগও করেছিলাম ,আমাকে বলেছিল স্যার নিজে রঞ্জুর সাথে যোগাযোগ করবে। আমি জানি না পরবর্তীতে বিষয়টার কি অবস্থা! সমাধান হয়েছে কীনা?

রঞ্জু ভাই আমার নিজ এলাকা ভালুকার আমার খুবই স্নেহের ও অত্যন্ত কাছের ছোট বোন সীমাকে বিয়ে করে খুবই প্রাণোচ্ছল সুখের জীবন কাটাচ্ছিল তারা। সীমা খুবই ভালো একটি মেয়ে পরিবারের সবার ছোট,আদরের ও খুবই লক্ষী একটি মেয়ে। সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত উৎসবমুখর ছিল বাসাটার পরিবেশ। বাসার পরিবেশটাই ছিল অন্য রকম মায়া ভরা। আমি এখন সীমার মুখটা চিন্তা করতেই বুকটা ফেটে যাচ্ছে। বিয়ের পর তারা বিদেশ চলে যাওয়ায় নতুন এ সম্পর্কে আমাদের দেখা হয়নি কখনও। আশা ছিল দেখা হবে জমায়ে আড্ডা হবে কারন রঞ্জু ভাইসহ দুজন কৃষিবিদ এ বাসার জামাই এবং দুজনই আমার আপন জন তাইত ইচ্ছে ছিল প্রচুর খানা-পিনা হবে এক সাথে তা আর হলো না! জানিনা ছোট বোনটি এ শোক কীভাবে সইবে? আল্লাহ তাকে শক্তি দিন।মৃত্যুকালে সে স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।

সব সময় প্রাণবন্ত রন্জু ভাই ছিল বন্ধু মহলে খুবই আপন মানুষ, তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি । আল্লাহ্ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। আমীন। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ ওনাকে কবুল করেন।

লেখকঃ উপ পরিচালক, জনসংযোগ ও প্রকাশনা
বাকৃবি,ময়মনসিংহ
dinu@bau.edu.bd

  •  
  •  
  •  
  •