এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের বিকল্প ভাবনা

সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন

আমরা যে যাই ভাবি সহসা দেশ করোনামুক্ত হবার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশে সীমিত আকারে সব কিছু চললেও শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। ইউজিসি’র মধ্যস্থতায় অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও কতটুকু ফলপ্রসু হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এভাবে কতদিন চলবে? এইচএসসি’র কথাই ধরা যাক- যাদের মার্চে-২০২০ পরীক্ষা দেবার কথা ছিল তারা বসে আছে প্রায় ৪ মাস যাবত। দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাচের বাকী আছে অর্ধেক সময়। তৃতীয় আর এক ব্যাচ এখন ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায়। কাজেই এই জট কি আকার ধারন করবে তা বলার সময় আসেনি।  প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই অনলাইন চালু করেছে। তাদের কাযক্রম থেমে নেই। সরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। যারা সবে মাত্র এসএসসি পাশ করলো তাদের ভর্তি নিয়ে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। কলেজগুলিতে দীর্ঘ দিন থেকেই অনলাইনে ক্লাশ হচ্ছে। অনলাইনে ক্লাশ যদি হয় তা হলে অনলাইন পরীক্ষা কেন হবে না? এই ভাবে যদি একের পর এক ব্যাচ বসে থাকে তা হলে দেশে এক ভয়াবহ জটিল অবস্থার সৃষ্টি হবে।

কাজেই  শিক্ষায় যে জট হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা নিরসনের জন্য বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষা নেবার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। পরীক্ষা যদি মেধা যাচাইয়ের মাধ্যম হয় তবে অনলাইনেও সে মেধা যাচাই করা সম্ভব। সারা বিশ্বেই প্রায় সকল ক্ষেত্রে অনলাইন সিস্টেম চালু হয়ে আসছে। প্রশ্ন হবে সংক্ষিপ্ত। আর তা যদি না হয় তবে দেশের অস্বাভাবিক পরিবেশ বিবেচনা করে প্রতিদিনের পরীক্ষাকে তিন গ্রুপে ভাগ করে সামাজিক দুরুত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে সকাল দুপুর ও বিকালে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সব পরীক্ষা দেড় ঘন্টা করে নেওয়া যায়। প্রতি পরীক্ষার প্রশ্ন তিন সেট করে হবে। প্রশ্নগুলি কনটেন্ট খুব কাছাকাছি হবে। এতে হয়তো কিছু তারতম্য হলেও বিশেষ পরিস্থিতি সাপেক্ষে তা বিবেচনা করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে পরীক্ষা মানেই মেধা যাচাই করা। আমাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতের হাতে ছেড়ে দিয়ে বসে থাকতে পারি না। এতে পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বাড়তি কিছু ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন। তিন ব্যাচের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মিলে প্রায় দেড় কোটি মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকায় দিনাতিপাত করছে। এই অনিশ্চিত অবস্থা চলতে থাকলে সামাজিক বিপর্যয় ঘটার সমুহ সম্ভাবনা দেখা দিবে।

লেখক: ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন
সাবেক উপাচার্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রফেসর, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহ

  •  
  •  
  •  
  •