অনুপ্রেরণার প্রিয় হামিদ স্যার

মো. মশিউর রহমান রিয়াজ:
হামিদ স্যার ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন মাত্র তিন বছর হয়েছে। কিন্তু ছাত্র জীবন এবং শিক্ষকতা জীবনে স্যারের তুলনা স্যার নিজেই। হামিদ স্যারের জন্ম ১লা জানুয়ারী, ১৯৮৯ ইং সালে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানাধীন শানঘাট গ্রামে। ২০০৫ সালে আড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাংনী, মেহেরপুর থেকে এস এস সি এবং ২০০৭ সালে বি এ এফ শাহীন কলেজ, যশোর থেকে এইচ, এস সি তে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। স্যারের প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বেন। ২০০৮ সালে ভর্তি হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ২০১২ সালের শেষের দিকে কৃতিত্বের সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১৩ সালের প্রথম দিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের শুরুতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান কারেন।

স্যারের কাছে ছাত্রদের উন্নতি সাধনই সব। উন্নত চিন্তা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় প্রিয় ব্যক্তি হামিদ স্যার। যখন স্যার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ, পবিপ্রবি থেকে বিদায় নিয়ে আসেন তখন ছাত্র-ছাত্রীরা চোখের পানি ফেলে আহাজারি করেছে। অনুষদের ডীন প্রফেসর আ ক ম মোস্তফা জামান স্যার বলেন, আপনার (হামিদ স্যার) এতো কম সময়ে এতো অর্জন, ছাত্রদের সবার প্রতি এতো ভালবাসা আমাকে মুদ্ধ করেছে। আপনি সত্যি ধন্য। হামিদ স্যারের আন্তরিকতা স্যারের সাথে না মিশলে বোঝা যাবে না। এখন বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগসহ কুয়েটের অনেকেরই প্রিয় শিক্ষক হামিদ স্যার।

হামিদ স্যারই প্রথম কুয়েটে ভিডিও লেকচার চালু করেছেন। ছাত্ররা যেন ক্লাসের পরে রুমেও ক্লাসগুলো পুনরায় দেখতে পারে। প্রতি নিয়ত ক্লাস ছাড়াও ফেসবুকেও ছাত্রদের অনুপ্রেরণার মধ্যমণি হামিদ স্যার। স্যারের একটা বিখ্যাত উক্তি:“ স্বপ্ন, চিন্তা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় কর; দেখবে চলার পথ সহজ, আনন্দদায়ক ও সফল হবে”।

হামিদ স্যারের ফেসবুক পেজ লিঙ্ক: https://www.facebook.com/engineerhamid
ভিডিও লেকচারের ইউটিউব লিঙ্ক: https://www.youtube.com/MdHamidulIslamHAMID
তথ্য সংগ্রহ হামিদ স্যারের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট: http://www.kuet.ac.bd/becm/hamid

এক নজরে হামিদ স্যারের অর্জনগুলো:
ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যায়নরত অবস্থা থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জার্নালে পাবলিকেশন্স ০৩ টি, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স পাবলিকেশন্স ১১ টি, সিম্পোজিয়াম ২টি এবং এ বছর ডুয়েট ও কুয়েট আন্তর্জজাতিক কনফারেন্সে মোট ৩টি পেপার প্রকাশিত হবে। এ বছর কুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ২য় সেরা পোষ্টার প্রেজেন্টেশন পুরুস্কার পেয়েছেন। গনিত অলিম্পিয়াড, রচনা প্রতিযোগীতা, মহাকাশ গবেষনা অলিম্পিয়াড, মেধাবৃত্তি ও খেলাধূলায় জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে সব মিলিয়ে ৪০টিরও বেশী পুরুস্কার পেয়েছেন। টিম লিডার ছিলেন মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়াষ্ট ম্যানেজমেন্ট এর গন সচেতনতা ক্যাম্পেইন-২০০৮ এ। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ গনিত অলিম্পিয়াড এর বিভাগীয় গনিত অলিম্পিয়াড চ্যাম্পিয়ন গ্রুপ হন।

২০০৮ সালে বাংলাদেশ অ্যাষ্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর আয়োজনে তৃতীয় বাংলাদেশ অ্যাষ্ট্রো অলিম্পিয়াড এ চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০৯ সালে খুলনা বিভাগীয় লাইব্রেরী এর বিজয় দিবস রচনা প্রতিযোগীতায় ১ম স্থান অধিকার করেন এবং ২০১০ সালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রচনা প্রতিযোগীতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ২০০৪ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ আয়োজনে রচনা প্রতিযোগীতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস- প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: