আজ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস

এস এম আবু সামা আল ফারুকীঃ ২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছর ৭ই জুন পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস। এ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হল খাদ্যবাহী রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করা, খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন সাধন।

৫ বছরের কম বয়সী শিশু ও নিম্ন আয়ের দেশের মানুষের মধ্যে খাদ্যবাহী রোগের বিস্তৃতি লক্ষ্য করে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছর ৭ জুন এ দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবছর বাংলাদেশ ফুড সেফটি ফাউন্ডেশন আয়োজন করতে চলেছে বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস। আয়োজনের এবারের থিম, “নিরাপদ খাদ্য স্বাস্থ্যকর আগামীর জন্য।”

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত একটি দেশের সরকারের দায়িত্ব সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ। এক্ষেত্রে সবার কাছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।সরকারের নীতি নির্ধারকরা এক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য, প্রানির কল্যাণ, কৃষি ও অন্যান্য শাখাকে সমন্বিত করে করে একটি স্থায়ী ও কার্যকরী সিস্টেম তৈরি করতে পারে।

যারা খাবার উৎপাদন ও প্রস্তুতের সাথে জড়িত তাদের নিরাপদ খাদ্যের ব্যপারে বেশি সচেতন হতে হবে। কৃষক, যারা মাঠ পর্যায়ে সরাসরি খাদ্য উৎপাদনের সাথে জড়িত, তারা যেন সকল পর্যায়ে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করতে পারে সেটি বিবেচনা করতে হবে। একই সাথে উৎপাদন বৃদ্ধি যেন জলবায়ু ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। পুষ্টিকর, স্বাস্থ্য সম্মত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যবাহী রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করতে হবে।

খাদ্য প্রসেসিংয়ের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এইচএসিসিপি অনুসরন করতে পারে। এটি হল প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে খাদ্য গ্রহন পর্যন্ত সম্ভাব্য সকল ধরনের ঝুঁকি শনাক্ত করে তা মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকরী পদ্ধতি।

যারা খাদ্য গ্রহন করি তারা খাদ্য নির্বাচনের সময় সেই খাদ্যের পুষ্টিগুন এবং খাদ্যের সাথে জড়িত ঝুঁকিগুলো জানা প্রয়োজন।  অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহন ও গ্রহনের প্রবনতা বিশ্বব্যাপী খাদ্যবাহী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সর্বোপরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া।  এর জন্য সরকার, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মহল, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা,  গ্রাহক, উৎপাদক, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সূত্রঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , ,