পবিত্র শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

sobeborat

নিউজ ডেস্কঃ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। এই দিবাগত রাতটি ইবাদত বন্দেগিতে কাটান ধর্মপ্রিয় মুসলমানরা।

ভাগ্য রজনীতে প্রথম আকাশে এসে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফসহ সব ধরনের দোয়া কবুল করেন। এ দিনকে কেন্দ্র করে বিশেষ খাবার তৈরি, আতশবাজি ও পটকা ফুটানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

শবে বরাতের সঙ্গে হালুয়া-রুটির একটি প্রচলন পরিলক্ষিত হয়। হালুয়া আরবি শব্দ, অর্থ হলো মিষ্টি বা মিষ্টান্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি পছন্দ করতেন, এ কথা সুবিদিত; তিনি গোশত পছন্দ করতেন, তা-ও অবিদিত নয়। যা-ই হোক শবে বরাত হলো ইবাদতের রাত, দান-খয়রাত করা ও মানুষকে খাওয়ানো একপ্রকার ইবাদত; তবে এই দিন ও রাতকে হালুয়া-রুটিতে পরিণত করে ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তেমনি হালুয়া-রুটির ওপর ফতোয়া প্রদানও প্রজ্ঞাপ্রসূত নয়।

শবে বরাতে করণীয়ঃ

(ক) নফল নামাজ [১] তাহিয়্যাতুল অজু, [২] দুখুলিল মাসজিদ, [৩] আউওয়াবিন, [৪] তাহাজ্জুদ, [৫] ছলাতুত তাসবিহ [৬] তাওবার নামাজ, [৭] ছলাতুল হাজাত, [৮] ছলাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল ইত্যাদি পড়া।

(খ) নামাজে কিরাআত ও রুকু-সেজদা দীর্ঘ করা।

(গ) পরের দিন নফল রোজা রাখা;

(ঘ) কোরআন শরিফ [১] সুরা দুখান ও [২] অন্যান্য ফজিলতের সুরাসমূহ তিলাওয়াত করা;

(ঙ) দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া;

(চ) তাওবা-ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা;

(ছ) দোয়া-কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির-আসকার ইত্যাদি করা;

(জ) কবর জিয়ারত করা;

(ঝ) নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সকল মোমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা।

শবে বরাতে বর্জনীয়:

(১) আতশবাজি, পটকা ফোটানো,

(২) ইবাদত-বন্দেগি বাদ দিয়ে বেহুদা ঘোরাফেরা করা,

(৩) অনাকাঙ্ক্ষিত আনন্দ-উল্লাস করা,

(৪) অযথা কথাবার্তা ও বেপরোয়া আচরণ করা,

(৫) অন্য কারও ইবাদতের বা ঘুমের বিঘ্ন ঘটানো,

(৬) হালুয়া-রুটি বা খাওয়াদাওয়ার পেছনে বেশি সময় নষ্ট করে ইবাদত থেকে গাফিল থাকা।

  •  
  •  
  •  
  •