হজরত আদমের (আ.) প্রথম পদচিহ্ন শ্রীলঙ্কায়

adams

নিউজ ডেস্কঃ আদম চূড়া বা শ্রী পদ বা পবিত্র পদচিহ্ন, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের শ্রীপাড়া প্রদেশে অবস্থিত একটি পর্বত চূড়া যা খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম এই চার ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি পবিত্র স্থান।

এই চূড়ায় একটি পায়ের ছাপ আছে যার দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা বিশ্বাস করেন পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) প্রথম শ্রীলঙ্কায় পদার্পণ করেছিলেন। পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে তাঁরই পায়ের ছাপ। তাই এ পাহাড় ও পাহাড়ের পায়ের ছাপকে মুসলমানরা পবিত্র হিসেবে গণ্য করে।

আদম পাহাড়ে আরোহণ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চূড়ায় পৌঁছানোর পথটি চলে গেছে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। সেই জঙ্গলে আছে বিষধর কীটপতঙ্গ। চূড়ার কাছাকাছি আছে একটি ধাতব সিঁড়ি, তাতে রয়েছে ৪০০০ ধাপ। এর প্রতিটি ধাপ নিরাপদ নয়। তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষে যেতে হলে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এই সিঁড়িটি কবে, কে নির্মাণ করেছিল তারও কোনো হদিস পাওয়া যায় না।

পাহাড়ের ওপরের আবহাওয়াও তেমন অনুকূল নয়। বছরে মাত্র তিন থেকে চার মাস এ পাহাড়ে আরোহণ করা যায়। বছরের অন্য সময়টাতে এতে আরোহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ তখন পাহাড় মেঘের ভেতর লুকিয়ে যায়। চারদিক থেকে মেঘের জেঁকে আসা মেঘে অদৃশ্য হয়ে পড়ে চূড়া।

৮৫১ খ্রিস্টাব্দে এ পাহাড়ের পদচিহ্ন সর্বপ্রথম নজরে পড়ে আরবের সোলাইমানের চোখে। ইবনে বতুতা ও মার্কো পোলোসহ বিশ্বের অনেক নামকরা পর্যটক এই আদম চূড়া ভ্রমণ করেছেন। ইবনে বতুতা রত্নপুরা হয়ে পবিত্র এ পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন। এখানে ওঠার জন্য তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন বারবেরিন থেকে।

তার আগে বণিক ও ভ্রমণপিপাসু মার্কো পোলো আদমের পদচিহ্নে তাঁর সম্মান জানানোর জন্য এ পাহাড়ে আরোহণ করেন। তিনি ১২৯২ সালে চীন থেকে ভেনিস যাওয়ার পথে এ সফর করেন। অনেক ইতিহাসবিদই মনে করেন যে এই চূড়া বিখ্যাত ছিল দ্বীপের ইতিহাস লেখার অনেক অনেক আগে থেকেই। সেই তখন থেকে এখন পর্যন্ত অবিকল রয়ে গেছে চূড়াটি, যা সত্যি বিস্ময়ের।

এই পাহাড় এবং পাহাড়ের পদচিহ্ন নিয়ে একটি বই লিখেছেন মারকুস অকসল্যান্ড। বইটির নাম দ্য স্যাক্রেট ফুটপ্রিন্ট এ কালচারাল হিস্ট্রি অব আদমস পিক।

তাতে বলা হয়েছে, পাহাড়টি ২২৪৩ মিটার উঁচু। আকৃতি কোণের মতো। পাহাড়টি হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের কাছে রহস্যময়তার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। অতি চমৎকার এই চূড়াটি বছরের পর বছর অবিকল রয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য এতটুকু ম্লান হয়নি। এ কারণে চূড়াটি বিশ্বের মানুষের কাছে পবিত্র বলে পরিচিত।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3