দেশকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবেঃ চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন

নিউজ ডেস্কঃ

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অনুজীব বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা জানান, ২৯ মার্চ আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোভিড-১৯ এর টেস্ট করার জন্য অনুমতি পাই। সেদিন থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে।

বিল ও মিলিন্ড গেটসের সঙ্গে আমরা কাজ করি অনেক বছর ধরে। আমরা কোভিড-১৯ এর রেসপন্সে টিম হিসেবে জড়িত হয়েছি জানানর পর তারা আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করেন। এর আগেও আমরা ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও বেশ কয়েকটি ব্যাক্টেরিয়ার জিনোম সিকোয়েন্স করেছি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ফান্ডে।

ল্যাবে ভাইরাসের সিকোয়েন্স করার আগে আমরা একে নিষ্ক্রিয় করে নেই যাতে ছড়াতে না পারে। বিষয়টা খুব জটিল। এর ইন্টেলিজেন্স গাইডেন্সটা এসেছে চ্যান জুকারবার্গ বায়োহাব বা ইনেশিয়েটিভ থেকে। তারা কিছু প্রটোকল ও টেকনিক ব্যবহার করে যা আমাদের কাজে লেগেছে। আমি দুবছর আগে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিং নিয়েছিলাম।

আমি একটা জরুরী কাজে যুক্তরাজ্যে ইমার্জেন্সি লক ডাউনে আটকে যাই। কিন্তু আমার টিম কাজ করছে বাংলাদেশে। ল্যাবে অনেকগুলো ক্যামেরা বসানো হয়, স্পিকার লাগানো হয়। কাজ চলতে থাকে আমি ভার্চুয়ালি টিমের সঙ্গে যুক্ত হই। প্রতি মুহূর্তের খবর নেয়া চলতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে টেস্টিংয়ের রেজাল্ট নিয়ে আলোচনা হয়। এভাবেই আমরা কাজে সফল হই।

আমি স্টাডি করার সময়েই শিখে গেছি কীভাবে জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে হয়, বিশ্লেষণ করতে হয়। এ সুযোগ কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পায় না। আমার ইচ্ছা ছিল, যেটা বাইরে শিখেছি সেটা দেশে নিয়ে আসবো। ৪ বছর আগে বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এই জেদটা নিয়ে দেশে ফিরি যেন এখানেই একটা সিস্টেম ডেভেলাপ করতে পারিা যাতে পরীক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে না হয়।

আমার মনে হয়, বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটা সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। প্রটোকলগুলো শিথিল হচ্ছে, মেশিন সহজ হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে বেশ কয়েকটা সিকোয়েন্সার এসেছে। মেশিন থাকলেই হবে না। আমাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্টিস লাগবে। এটা গ্রো করাতে হবে। কারণ কারও মেশিন আছে, কারও টেকনিক্যাল এক্সপার্টিস আছে।

এখন পর্যন্ত ২৪ হাজারের বেশি সিকোয়েন্সিং হয়েছে। প্রথম এ ভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্স হয়েছে ৯ জানুয়ারি। ঐদিন সেকোন্সেটি দেখতে পেয়েছিলাম বলে জানতে পেড়েছি সার্স সিওভি-২ ভাইরাস থেকে এটি এসেছে। বাদুড়ের মুখ থেকে অন্য প্রাণীর মাধ্যমে এটি মানুষের দেহে ছড়িয়েছে।

পুরো পৃথিবীতেই কোভিড-১৯ এর জন্য পিসিআর টেস্ট করা হচ্ছে। পিসিআর টেস্টের জন্য লাগে প্রাইমার। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্যই আমরা প্রাইমারগুলো টেস্টের জন্য সাজাতে পেরেছি।

সবচেয়ে বড় যে দিক, সেটা হচ্ছে এর মাধ্যমে আমরা ভাইরাসের গতি প্রকৃতি বুঝতে পারছি। এটি পরিবর্তিত হয়ে কি হচ্ছে সেগুলো। আমরা দেখছি ভাইরাসটি একেক দেশে একেক রকম আচরণ করছে। এর কারণ কিন্তু মানুষের আচরন, জীবনাচারের জন্যও হয়।

  •  
  •  
  •  
  •