ব্রেন্ডান শোয়াব মহামারী করোনার মধ্যেও ফুটবল লিগ শুরু করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে

নিউজ ডেস্কঃ

করোনা মহামারীর কারণে দিন দিন বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃত্যের সংখ্যা। থমকে থাকা পৃথিবীতে বন্ধ আছে সব খেলাধুলা। ফলে, অন্যান্য ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিষ্ঠান ও ফুটবল ক্লাবগুলো। তাই ক্ষতির লাগাম টেনে ধরতে আবারো শুরু করতে হচ্ছে ফুটবল লিগগুলো। এতে করে বাড়ছে খেলোয়াড়দের জীবনের ঝুঁকি। এমনটাই মনে করেন ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার্স এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ব্রেন্ডান শোয়াব।

ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ব্রেন্ডান শোয়াব জানান, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা চিন্তিত। অনেক ক্লাবকে করোনা মহামারীর মধ্যেও তাদের খেলা শুরু করতে হচ্ছে। ফুটবলারদের ঝুকিঁ নিয়েও খেলার জন্য মনোবল তৈরি করতে হচ্ছে। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে ক্লাবকে বাঁচাতে। যতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক না কেনো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া সত্যিই কষ্ট। এতে করে ঝুকিঁ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ইউরোপিয়ান লিগগুলোর মধ্যে সবার আগে শুরু হচ্ছে বুন্দেসলিগা। ১৬ মে থেকে আবারো মাঠে গড়াতে যাচ্ছে এই জার্মান লিগ। ব্রেন্ডান মনে করেন, ঝুকিঁ নিয়ে খেলোয়াড়রা যদি এগিয়ে আসতে পারে তবে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদেরও এ বিষয়ে ভাবা উচিৎ।

ব্রেন্ডান শোয়াব জানান, করোনার কারণে বন্ধ হওয়া লিগগুলোর মধ্যে বুন্দেসলিগা সবার আগে শুরু হচ্ছে। ম্যানুয়েল নুয়ারের একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে বলেছে, এই ক্রান্তিকাল থেকে উত্তোরণে সবার আগে খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসতে হবে। এটাই হলো প্রকৃত নেতৃত্ব। তাই ফুটবলারদের মতো সময় এসেছে লিগ ও স্পোর্টস গভর্নিং বডির চিন্তাভাবনায়ও পরিবর্তন আনা।

করোনা মহামারীর কারণে শুধু ফুটবল নয়। অ্যাথলেটিক্স ও অলিম্পিকের মতো বড় বড় সব ইভেন্ট পিছিয়ে গেছে। এতে বিপুল পরিমাণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে আয়োজকরা ও অ্যাথলেটরা। সবচেয়ে বেশি লোকসান গুণতে হচ্ছে দুস্থ ক্লাব ও অ্যাথলেটদের। তাই তাদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার্স এসোসিয়েশনের এই কর্মকর্তার।

ব্রেন্ডান শোয়াব আরও জানান, খেলাধুলা শুধুমাত্র একটা দেশ নয়, পুরো বিশ্বে প্রভাব ফেলে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সবদিক থেকেই অবদান রাখে। তাই করোনায় খেলা বন্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পুরো বিশ্বে তার প্রভাব পড়েছে। এই অবস্থায় যদি খেলোয়াড়রা এগিয়ে আসতে পারে, তবে কেনো অন্যরা নয়। বড় ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিৎ এগিয়ে আসা।

এদিকে, অনেক খেলোয়াড় কভিড-১৯ এ এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। খেলা তো দূর, পরিবারের বাইরে এখন সময় কাটছে তাদের। তাই তাদের চিকিৎসা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ব্রেন্ডান।

ব্রেন্ডান জানান, একজন খেলোয়াড়কে তার সুন্দর ক্যারিয়ারের জন্য পুরোপুরি ফিট থাকতে হয়। কিন্তু আমরা দেখেছি, যেসব খেলোয়াড় এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তাদের অনেকের শারীরিক অবস্থাই খুব একটা ভালো নেই। কারণ করোনা শুধু ফুসফুস নয়, ক্ষতি করে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও। এটা চিন্তার বিষয়। কর্তৃপক্ষের উচিৎ আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়দের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

  •  
  •  
  •  
  •