করোনায় ক্ষতি হলো সবচেয়ে বেশি ফুটবলারদের

নিউজ ডেস্কঃ

করোনা আতংকে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ কোয়ারেন্টাইনে চলে গিয়েছিল। লিগ হবে কি হবে না—তা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন ফুটবলাররা। শেষপর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হলো গেল লিগের।

হবে না কেন, ১৩ ক্লাবের মধ্যে ১১ ক্লাব দাবি তুলেছিল লিগ বাতিলের। ফুটবলাররা আতংকে ছিলেন কারোনায় আক্রান্ত হয়ে লিগটাই না বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দেও আশংকাটাই সত্য হয়েয়েছে। ক্লাবের দাবি পূরণে বাফুফে সিদ্ধান্ত নিয়ে লিগ পরিত্যক্ত করল। আর এতে ফুটবলাররা বড়ো ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে এমনটাই মনে করছেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা।

জাতীয় দলের গোলকিপার আশরাফুল রানা বললেন, আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের যতটা না ক্ষতি হলো তারচেয়েও বেশি ক্ষতি হয়েছে অন্যান্য ফুটবলারদের। আমাদের নিয়েই তো সব হিসাব না। সবাইকে নিয়েই বিচার করতে হবে।’

রানাসহ আরো একাধিক ফুটবলার লিগ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। তাদের মূলবক্তব্য হচ্ছে নতুন মৌসুমেই যদি লিগ হয় তাহলে পরিত্যক্ত না করে পরিস্থিতি ভালো হলে তখন এই লিগটা আয়োজন করা যেত। বাফুফের সিদ্ধান্তে একটা জায়গা মন খারাপ হয়েছে রানার। ফুটবলারদের সঙ্গেও বাফুফে কথা বলতে পারত। খেলোয়াড়দের মনের কথাগুলো শুনতে পারত। সিদ্ধান্ত বাফুফে নেবে কিন্তু কথা বললে আমরাও খুশি হতে পারতাম।

রানা বললেন, ‘আমাদের হয়ে কোচ জেমি ডের সঙ্গে কথা বলা যেত। জেমি তো লিগ নিয়ে কথা বলেছেনও। পরিত্যক্ত না করে এই লিগটা করলে আমরা নিজেরা আলোচনা করেছিলাম দুই তিন মাসের বেতন ছেড়ে দিয়ে কিংবা ১৫ হতে ২০ শতাংশ পারিশ্রমিক ছেড়ে দিয়ে হলেও খেলাটা খেলব। এখন বাইডিংসের মধ্যে পড়লাম।’

লিগ পরিত্যক্ত হওয়ায় ব্রাদার্সের ফুটবল ম্যানেজার আমের খানও কষ্ট পেয়েছেন। বলছিলেন আমরা যখন ফুটবল খেলেছি তখন এক বছর পাইনি, পরের বছর বাইন্ডিংস। নানা ভাবে আটকা পড়তাম। সেই পরিস্তিতি নেই। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন তার পরও কষ্ট লাগছে। এটা দুঃখজনক। এক বছর পাচ্ছে না ফুটবলাররা।’ জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন বগুড়ায় শিবগঞ্জে পোড়ানগরীতে তার বাড়ি। অপেক্ষা ছিলেন ভালো খবর পাবেন। লিগ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘোষণায় মন খারাপ হয়েছে। জীবন বললেন, ‘খেলাই যখন হবে এই লিগটাই করা যেত। একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল। তা ছাড়া আমরা কয়েক মাস ক্লাব ফুটবল খেলেছি। লিগের ম্যাচ খেলেছি। টুর্নামেন্ট খেলেছি। কয়েক মাস অনুশীলন করেছি। সবই তো বৃথা যেতে পারে না।’

গোলকিপার রানার এক কথা বাফুফের সিদ্ধান্তটা সুইসাইড সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে। যেখানে অন্যান্য দেশের লিগ শুরু করার চেষ্টায় আমরা তখন অন্য পথে। লিগ আয়োজনের সুযোগ ছিল। পরিত্যক্ত হওয়া আমরা ফুটবলারদেরই বেশি ক্ষতি হলো।’

  •  
  •  
  •  
  •