একই রাতে দুই মহারথীর পরাজয়

নিউজ ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক বিরতির পর খেলতে নেমেই পরাজয় বরন করেছে স্পেনিশ ফুটবলে দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। শনিবার আবার শুরু হয় লা লীগা এবং প্রথম দিনই হার মানে রিয়াল ও বার্সেলোনা। মূলত ভাল খেলতে না পারার খেসারতই দিয়েছে শিরোপার জন্য লড়াই করা দল দুটি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আগামী সপ্তাহেই এ দুটি দল মৌসুমের প্রথম এলক্লাসিকোতে মুখোমুখি হবে।

অর্থাৎ পরাজয় দিয়ে তারা এলক্লাসিকোর প্রস্তুতি শুরু করলো। রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছে লা লীগার নবাগত ক্যাডিজের কাছে। অপর দিকে একই ব্যবধানে বার্সেলোনা হেরেছে গেটাফের কাছে। রিয়ালের কোচ জিনেদিন জিদান পরাজয় এড়ানোর জন্য বিরতির পর খেলা শুরু হওয়ার আগেই চারজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন।

এতে মাঠে তাদের প্রাধান্য বাড়লেও গোল করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটে অ্যান্টনি লোজানোর করা গোলই তিন পয়েন্ট পাইয়ে দেয় সফরকারীদের। এর দুই ঘন্টা পার গেটাফের মাঠে খেলতে নেমে একই পরিনত বরণ করতে হয় বার্সেলোনাকেও। রিয়াল মাদ্রিদ মাত্র এক গোল খেয়েছে। কিন্তু তারা হারতে পারতো আরও বড় ব্যবধানে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে ক্যাডিজ আক্রমণ করলেই গোলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

দ্বিতীয় মিনিটেই তারা গোল খেতে বসেছিল। গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া পরাস্ত হলেও গোল লাইন থেকে তখন বাচিয়ে দেন অধিনায়ক সার্জিও র‌্যামোস। ১৬ মিনিটের গোলের পেছনে অবশ্য র‌্যামোসের ব্যর্থতা ছিল। তিনি লোজানোকে ঠিক মতো নজরে না রাখাতেই ফাকায় বল পেয়ে সে গোলটি করতে পেরেছে। এছাড়া আরও কয়েকবার দলকে গোল খাওয়ার হাত থেকে বাচিয়েছেন গোলরক্ষক কর্তোয়া।

বার্সেলোনা যে খুব ভাল খেলেছে তা নয়। আশ্চর্যজনকভাবে লিওনেল মেসি ছিলেন বলতে গেলে নিস্প্রভ। ব্যর্থ হয়েছেন দলের বাকিরাও। ফলে জেমি মাতা পেনাল্টি থেকে গোল করে গেটাফে এনে দিতে সক্ষম হন পূর্ণ তিন পয়েন্ট।

মাদ্রিদের জন্য চিন্তার কারণ সার্জিও র‌্যামোসের ইনজুরি। প্রথমার্ধে তিনি হাটুতে ব্যথা পেয়েছিলেন। বিরতির পর আর তিনি খেলতে নামেননি। এর পর তার হাটুতে বরফ দিয়ে বেধে রাখতে দেখা গেছে। রিয়ালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে র‌্যামোসের আঘাত গুরুতর নয়। কিন্তু বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগে শাখতার ডনেতস্ক এবং শনিবার এলক্লাসিকোতে তিনি খেলতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জিদান বলেন, ‘আশা করছি এটা খুবই ছোট একটি আঘাত হবে। আমরা আগামীকাল পরীক্ষা করে দেখবো তার প্রকৃত অবস্থা।’

র‌্যামোসের অনুপস্থিতি ভোগাবে রিয়ালকে। তিনি মাঠে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। যদিও শনিবার তিনি ভাল খেলতে পারেননি। অনেকটা তার ব্যর্থতার কারণেই শুরুর দিকে রিয়ালকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয় ক্যাডিজ।

রিয়ালের ব্যর্থতার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ বার্সেলোনা। অবশ্য অপর দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ঠিকই তাদের ম্যাচ জিতেছে ২-০ গোলে। তারা সেল্টা ভিগোকে হারিয়েছে। দলের হয়ে একটি গোল করেছেন লুইস সুয়ারেজ।

পরাজয়ের পর কোচ জিদান বলেন, ‘এ পরাজয়ের কোন ব্যাখ্যা নেই। তারা যদি প্রথমার্ধে আরও দু-তিনটি গোল করতো তাহলেও আমাদের বলার কিছু থাকতো না। কোন অজুহাতেই এ পরাজয়ের ব্যাখ্যা হয় না।’ ক্যাডিজ ১৪ বছর পর লা লীগায় ফিরেছে এ মৌসুমে। তারা ২৯ বছর পর রিয়ালকে পরাজিত করতে সক্ষম হলো। র‌্যামোস ছাড়াও কোচকে আশাহত করছেন ইসকো, লুকা মড্রিচ এবং লুকাস ভাজকেজ। ফলে বিরতির পর এদের আর মাঠে নামাননি কোচ। তাদের বদলে মাঠে নামানো হয় এডার মিলিটাও, ক্যাসেমিরো, ফেডে ভালভার্দে এবং মার্কো অ্যাসেনসিওকে। পরে টনি ক্রুসের বদলে সুযোগ পান লুকা জোভিচ। রিয়াল সুযোগ সৃষ্টি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। বেনজামার একটি শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে সমতা ফেরার সুযোগ হাতছাড়া হয়।

গেটাফে জিতলেও সেভাবে বার্সেলোনার উপর প্রভাব ফেলতে পারেনি। খেলায় সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি। মেসির শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। এমনকি ইনজুরি টাইমে তিনি শট বাইরে মারেন। সুযোগ নষ্ট করেন অ্যান্টনি গ্রিজম্যানও। পোস্টে লাগে গেটাফের শটও। কুচো হার্নান্ডেজের শট বারে লেগে প্রতিহত হলে ব্যবধান বাড়েনি। ডিন ডাকোহ্যামকে ফাউল করে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেন ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং। সেটি থেকে গোল করে গেটাফেকে এগিয়ে দেন মাতা।

এর আগে অ্যাটলেটিকোর জয়ে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ । দিয়েগো কস্টার সাথে জুটি বেধেছিলেন তিনি। কিন্তু কস্টা আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় তাদের সে জুটি খুব একটা কাজে লাগেনি। মাঠ ছাড়ার পর কস্টাকে মনক্ষুণœ অবস্থায় দেখা গেছে। মনে করা হচ্ছে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে বুধবার বায়ানর্ মিউনিখের বিপক্ষে খেলতে পারবেননা।

  •  
  •  
  •  
  •