করোনাকালেও সেশনজটমুক্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
নিউজ ডেস্কঃ করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় টানা বন্ধের পরেও সংকটে পড়তে হয়নি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের। কেননা নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি ছাড় ও অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা সর্বোচ্চ সংখ্যাক শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ। পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত আছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম।
তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সফলতার সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে তিন হাজারেরও বেশি অনলাইন ক্লাস নিয়েছি, উপস্থিতি ৯৩ শতাংশের মতো। যা স্বাভাবিক সময় এর থেকেও বেশি। আমাদের একটা ক্লাসও মিস হয়নি। আমাদের কমিটমেন্ট আছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোটিভিটেড ছিল বলেই আমরা সফল হয়েছি।
তিনি বলেন, আসলে শতভাগ সফলভাবে অনলাইনে শিক্ষাদান একটু কঠিন, তবে সত্যিকারে উদ্যোগী হলে কাজটি যে অসম্ভব নয় মোটেও তাই প্রমাণ করল আমাদের প্রতিষ্ঠান।’
জানা গেছে, গত ১২ মাসে তিন সেমিস্টারে সব শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে ফি মওকুফ করা হয়েছে। স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটি ফি শতভাগ মওকুফ করা হয়েছে। মোট মওকুফের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ। মেধাবী ও অভাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসাবে ১৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী তাদের বাবা-মা হারিয়েছে তাদের জন্যও বিশেষ বৃত্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
করোনাকালে ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে তাদের দুই দিনের বেতনের সমপরিমান মোট ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি মহামারী চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বাংলাদেশ সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সাহায্যে ১১ হাজার ব্যাগ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে।
কোভিড-১৯ এর পরীক্ষার সহায়তার জন্য সরকারকে পিসিআর মেশিন সরবরাহ করেছে। ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্তদের ২৪ ঘন্টা অনলাইন সেবা দিয়ে আাসছে। জিনোম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এনজিআরআই) এ তাদের নিজস্ব গবেষণাগারে সার্স-কভ-২ জিনোমকে সিক্যুয়েন্স করে দেশের প্রথম এবং একমাত্র বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ কৃতিত্ব অর্জন করে।
এদিকে কেবল একাডেমিক শিক্ষাতেই সফল নয় প্রতিষ্ঠানটি। এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনসহ নানা কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতির জনকের জীবন নিয়ে একটি বই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই প্রকাশ করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’। যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর নিয়ে লেখা দুই হাজার ১৭৮টি বই কর্নারে সংরক্ষিত আছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহায়তায় আয়োজিত ১০০ দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কুইজ’ প্রতিযোগিতার নলেজ পার্টনার হিসেবে যুক্ত নর্থ সাউথ। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বিনা বেতনে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি মেধাবী ও চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রায় দেড়‘শ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
অন্যদিকে নর্থ সাউথ ‘বিষয় ভিত্তিক কিউ এস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ২০২১’ এ টানা দ্বিতীয়বারের মত স্থান লাভ করেছে। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে একমাত্র নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিই এই মাইলফলক অর্জন করেছে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি উন্নতমানের শিক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বখ্যাত ক্যানভাসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ইতোমধ্যেই। এ ব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে নর্থ সাউথ হবে এ পদ্ধতি ব্যবহারকারী দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়।

