বাকৃবিতে উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন রঙিন গাজরের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন বাকৃবি’র অধ্যাপক হারুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী বিভিন্ন জাতের গাজর নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড.  মো. হারুন অর রশিদ ও তাঁর গবেষকদল। গবেষণায় তাঁরা উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন গাজরের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন যেগুলো দেশের ঊষ্ণ ও ক্ষরা সহিষ্ণু অঞ্চলেও চাষের উপযোগী। এছাড়া গাজরের জাত ভেদে হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় আড়াই থেকে তিনগুণ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম ও ইউএসডিএ/ এআরএস – ইউএসএআইডি ইউএসএ এর যৌথ অর্থায়নে অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২৪টি জাত ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ টি জাতের গাজর নিয়ে গবেষণা করেছেন ড. হারুন ও তাঁর গবেষক দল। দেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে গাজরের হেক্টর প্রতি ফলন গড়ে ১০ টন হলেও গবেষণায় বাছাইকৃত জাতের ফলন হেক্টর প্রতি ২৫ থেকে ৪০ টন পর্যন্ত পাওয়া গেছে বলে জানান অধ্যাপক ড. হারুন।


সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ দিবসে অনুষ্ঠানে বাউরেস পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজা বেগম বলেন, খাদ্য ও পুষ্টিঘাটতি নিরসনে নিশ্চিতভাবেই এই ধরনের গবেষণা প্রকল্পের বিকল্প নেই।

গাজর সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত এবং জনপ্রিয় একটি মূল জাতীয় সবজি। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. হারুন বলেন, দেশে শুধু কমলা রঙয়ের গাজর পাওয়া গেলেও আমরা লাল, সাদা, হলুদ ও বেগুনি রঙয়ের বিভিন্ন বিদেশী জাতের গাজর দেশে চাষের উপযোগী করে তুলেছি। লাল, কমলা, হলুদ ও বেগুনি রঙয়ের হওয়ায় গাজরগুলোতে ভিটামিন এ, অ্যান্থোসায়ানিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

তিনি আরও জানান, ”বাংলাদেশের আবহাওয়া গাজরের বীজ উৎপাদনের উপযোগী না হওয়ায় প্রায় ৯৯ শতাংশ বীজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানিকৃত প্রতি কেজি বীজের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তবে আমদানিকৃত বীজের অধিকাংশ সংকরায়িত বা হাইব্রিড জাতের হওয়ায় উৎপাদিত গাজর থেকে পুণরায় বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় না। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. হারুন বলেন, উচ্চ ফলনশীল গাজরের জাতগুলো থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে বীজ উৎপাদনের কাজ চলছে। এসব বীজ কৃষকের হাতে স্বল্পমূল্যে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

উচ্চফলনশীল এসব জাতের গাজর চাষ সম্পর্কে অধ্যাপক ড. হারুন বলেন, ৭০ থেকে ৮০ দিনেই গাজরগুলোর ফলন পাওয়া যায় যার এক একটি গাজরের ওজন গড়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। গাজরগুলো দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন খরা প্রবণ এলাকা যেমন রংপুরের কাউনিয়া, লালমনিরহাট ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3