একজন গ্রাজুয়েটের দৃষ্টিতে বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়ন কেমন হওয়া উচিত

রাগীব হাসান বর্ষণঃ

ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই সিভিল সার্ভিসের চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ ছিলো, প্রথমদিকে শুধুমাত্র ইংরেজরাই তৎকালীন সিভিল সার্ভিসের চাকরির যোগ্য হলেও কালক্রমে এদেশের মানুষরাও এই চাকরিতে প্রবেশ করে। ব্রিটিশ আমল শেষ হয়েছে, এরপর পাকিস্তানীদের শাসনামল ও শেষ এখন এই স্বাধীন বাংলাদেশেও সিভিল সার্ভিসের এই চাকরির প্রতি তরূণদের আগ্রহের কমতি নেই।

পরীক্ষা পদ্ধতিঃ

বিসিএস বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের এই পরীক্ষার যাবতীয় কার্যাবলী সম্পন্ন করে থাকে আমাদের দেশের অন্যতম সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কর্ম কমিশন বা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিসেস কমিশন। মূলত তিন ধাপে এই পরীক্ষা হয়ে থাকে,
১. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা
২. লিখিত পরীক্ষা
৩. মৌখিক পরীক্ষা
তিন ধাপে যোগ্যতম প্রার্থীদের বাছাই করার কঠিন কাজটি করে থাকে কর্ম কমিশন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন নৈর্ব্যক্তিক আকারে হয়ে থাকে আর মার্ক থাকে ২০০, এটিকেই সবচাইতে কঠিন ধাপ বলা হয় বিসিএস পরীক্ষার।

প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য যোগ্যতম প্রার্থীদের খুজে বের করার জন্য বিসিএস পরীক্ষা নেয়া হয়, একটি নির্দিষ্ট সিলেবাস আছে যার উপর ভিত্তি করেই প্রিলি এবং লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। মূলত একজন প্রার্থীর জ্ঞানের ব্যাপ্তি এবং যুক্তি প্রয়োগের দক্ষতা যাচাই করা হয়ে থাকে।

এখানে অনেক বিষয় আছে যা মূখস্ত করতে হয়, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা মূখস্ত করা লাগে যা কিনা এই যুগে খুব সহজেই করা যায়, একটা সময় মুদ্রা এবং রাজধানী নিয়ে বিসিএস এ অনেক প্রশ্ন আসলেও সেই ধারা এখন আর নেই, তবে বর্তমান সিলেবাস থেকেও কিছু বিষয় আছে যেগুলো বাদ দেয়া সময়ের দাবী। মেধা যাচাইয়ের জন্য যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পুরাতন অনেক কিছু বাদ দিয়ে নতুন নতুন বিষয় যেগুলোতে বর্তমান তরুণদের আগ্রহ বেশি, সেইসব বিষয় সিলেবাসে সংযুক্ত করলে পরীক্ষাপদ্ধতি আরেকটু সহজ এবং যুগোপযোগী হতে পারে।

ফলাফলঃ

যে বিষয়টি নিয়ে সকল পরীক্ষার্থীর আপত্তি সেটি হচ্ছে সময়। সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা, বেকারের জীবনে সময় আরো তাড়াতাড়ি যায় বলে অনুভূত হয়, বিসিএস এর দীর্ঘসূত্রিতা এর সবচাইতে বড় একটি  দুর্বলতা।  একটি বিসিএস দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য ন্যূনতম তিন বছর অপেক্ষা করা লাগে। এই অপেক্ষা করা মানে হচ্ছে চূড়ান্ত ধৈর্যের পরীক্ষা দেয়া। একজন পরীক্ষার্থীর জীবনের মূল্যবান অনেক সময়ই চলে যায় এই বিসিএস নামক সোনার হরিণের জন্য অপেক্ষা করতে করতে। ভারতের পাব্লিক সার্ভিসেস পরীক্ষার নাম ইউনিয়ন পাব্লিক সার্ভিস কমিশন বা সংক্ষেপে UPSC, এটিতেও তিন ধাপে মূল্যায়ন হয় এবং অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে মোটামুটি এক বছরের মধ্যেই এর সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
আমাদেরও যদি এমন স্বল্প সময়ের মধ্যে বিসিএস এর কার্যক্রম সম্পন্ন করা যেতো তাহলে তা তরুণদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনতো। প্রিলিমিনারি, লিখিত আর মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে আনাটা এখন সবচাইতে বেশি দরকার।

মূল্যায়নঃ

পিএসসি কিভাবে লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে এটি সম্পর্কে তারা পরিষ্কারভাবে কিছুই জানায় না, প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নৈর্ব্যক্তিক হওয়াতে সবাই জানে এটি কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়ন পদ্ধতির উপরে অনেকের জীবন নির্ভর করে, এই মূল্যায়ন নির্ভুল এবং দ্রুততম সময়ে করার দিকে আরো নজর দেয়া উচিৎ।

বর্তমানে বিসিএস নিয়ে তরুণসমাজে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এর মূল কারণ হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, একটা সময় বিসিএস এ নিয়োগ নিয়ে অনেক দূর্নীতির কথা শোনা গেলেও বর্তমানে এই প্রক্রিয়া দূর্নীতিমুক্ত এটি নির্দ্বিধায় বলা যায় মূলত এই কারনেই সবাই এখন বিসিএসের দিকে ঝুঁকছে।

পরিশেষে, প্রজাতন্ত্রে যত মেধাবী নিয়োগ পাবে দেশ তত তাড়াতাড়ি উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে, কিন্তু এর পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও মেধাবীদের দরকার, শিক্ষা, গবেষণা, কারিগরি খাতের অনেকেই এখন বিসিএস এর জন্য আগ্রহী হচ্ছে যা আখেরে দেশের জন্য ভালো হবে না, এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিদের জন্য কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য কমিয়ে আনাটা সময়ের দাবী। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য কমে আসুক, সকলে মিলে গড়ে তুলুক সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , ,