লাশ চেনার উপায় নেই, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী ঢামেক

nobab

নিউজ ডেস্কঃ রূপগঞ্জে হাশেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৫২ জনের প্রাণহানি ও অনেক মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ঢামেক মর্গে ৪৯টি মরদেহ রাখা হলেও এতগুলো মরদেহ সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের জন্য মরচুয়ারি কুলার নেই। জানা গেছে, ঢামেক মর্গের মরচুয়ারিতে ২০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

কিন্তু আগে থেকেই মরচুয়ারি কুলারে ১০টি মরদেহ রয়েছে। ফলে মরদেহগুলোর খুব বড়জোর অর্ধেক সংখ্যক মরচুয়ারি কুলারে রাখা যাবে। বাকিগুলো মেঝেতেই পড়ে থাকবে।

মর্গে আনা ৪৯ জনের শরীর পুড়ে সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে গেছে। মরদেহ দেখে চেনার উপায় নেই। পরিধেয় পোশাক বা অলংকার দেখে স্বজনরা চিনতে পারলেও ডিএনএ ম্যাচিং-এর আগে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না।

ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, অতীতে রানা প্লাজা, তাজরীন গার্মেন্টস, নিমতলী ও চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবেই দাফন করা হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ ম্যাচিং-এর মাধ্যমে কোন কবরটিতে তার স্বজনকে দাফন করা হয়েছে তা জানিয়ে দেয়া হয়।

মরদেহের খোঁজে স্বজনরা মর্গের সামনে ছুটে আসেন। কেউ ভাইকে, কেউ স্বামীকে, কেউ স্ত্রী আবার কেউ-বা নিকটাত্মীয়দের খুঁজে ফিরছেন।

তাদেরই একজন মসিউর রহমান। তার ছোট ভাই ওই ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। গতকাল থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে হন্যে হয়ে খুঁজছেন তার ভাইকে। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তার ভাইয়ের মোবাইলে কল ঢুকলেও কেউ রিসিভ করেনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই মরছে নাকি বেঁচে আছে, তা তো শিওর হতে অইবো। আমি কার কাছে যামু, কেমনে পামু।’

পঞ্চাশোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ তার স্ত্রীকে খুঁজতে এসেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতির সকাল ৮টায় বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে যান তার স্ত্রী। রাত ৮টায় তার ফেরার কথা ছিল। বিকেলে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তাকে কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3