তিমি কি আত্নহত্যা করে?

তাসনিম ইলিন ইসলাম:

তিমি আত্মহত্যা করে কিনা এই তথ্য নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে। তিমিরা সাধারণত দলে চলাফেরা করে। এছাড়াও পুরুষ ও নারী সঙ্গীরা একসঙ্গেই চলাফেরা করতে পছন্দ করে। কিন্তু, অনেকসময় দেখা যায়, একজন সঙ্গী কোনোভাবে মারা গেলে অপর সঙ্গীর মৃত্যু হয়।

আবার এমনও হয় যে, দলের নেতা মারা যাওয়ার পর, দলের সব তিমির মৃত্যু হয়েছে। এমনি একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৯০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেপ-কড সৈকতে। সমুদ্রে আছড়ে পড়েছিল মৃত ৩৭ টি তিমির ঝাঁক। মানুষের মতো এরাও যুগল বেঁধে চলাচল করে। সঙ্গীর কিছু হলেই এরা ভীষণ উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়ে এই প্রাণী। হতাশাগ্রস্ত হয়ে ছুটতে শুরু করে এদিক সেদিক।

তিমি জলে বাস করলেও এরা স্তন্যপায়ী। এদের রয়েছে ফুলকার বদলে ফুসফুস। ফুসফুস দিয়ে যেহেতু পানির নিচে শ্বাস নিতে পারেনা ,তাই অক্সিজেন নিতে বারবার পানির উপরে উঠে আসে। বাতাসে সবচেয়ে বেশি থাকে নাইট্রোজেন। তাই, শ্বাস গ্রহণ করার সময় নাইট্রোজেন শরীরে প্রবেশ করে।সমুদ্রের তলদেশে যত যাওয়া যায়, নাইট্রোজেনের চাপ বাড়তে থাকে। ফলে নাইট্রোজেন প্রবেশ করে রক্তের প্রতিটি শিরায়, উপশিরায়। কিন্তু, তিমি যখন প্রবল বেগে উপরে উঠতে থাকে তখন হঠাৎ নিম্নচাপে রক্তের নাইট্রোজেন গ্যাস দেহ থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসতে চায়। এমতাবস্থায়, ধমনী ফেটে মৃত্যু হয় তিমির। এমনটা স্কুবা ডাইভারদের ক্ষেত্রে ও। একে বলা হয় “ ডিকম্প্রেশন সিকনেস “।

তিমি আত্মহত্যা করতে পারে কি-না বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো অমীমাংসিত। তবে দূষণ, আহত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে তিমিদের গভীর সমুদ্র থেকে সৈকতমুখী যাত্রা করা ও নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার যে প্রবণতা, তাকে ধারণাগত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা হাইপোথিসিস অনুযায়ী ‘হোয়েল স্ট্র্যান্ডিং ইভেন্ট’ বা তিমিদের আত্মহত্যা বলা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3