যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর আলেপ্পোয় আবারও যুদ্ধ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিরিয়ার পূর্ব আলেপ্পোয় সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই সে চুক্তি ভেঙে গেছে। বেসামরিক নাগরিক ও বিদ্রোহীদের সরে যাওয়া এবং উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই আলেপ্পোয় আবারও যুদ্ধ শুরু হয়।

এদিকে, প্রচণ্ড বিমান ও গোলা হামলার মুখে বিদ্রোহী যোদ্ধা ও আটকা পড়া মানুষদের আলেপ্পো ছাড়ার প্রস্তুতি বন্ধ হয়ে গেছে।

রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, কোণঠাসা হয়ে পড়া বিদ্রোহীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে বিদ্রোহীরা চাইছে, বেসামরিক মানুষজনও যেন তাদের সঙ্গে পালানোর সুযোগ পায়। এ সমঝোতা চুক্তির পর পূর্ব আলেপ্পোয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে বলে জানিয়েছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, বিদ্রোহীরা গতকাল সরকারি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালালে সাতজন নিহত হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস অবশ্য বলছে, সরকারি বাহিনীও গতকাল বিদ্রোহীদের ওপর আবারও হামলা শুরু করেছে।

আলেপ্পোর লড়াইয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রধান সমর্থক ইরান রাশিয়া-তুরস্কের চুক্তিতে নতুন শর্তারোপ করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বিদ্রোহী ও জাতিসংঘের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান বিদ্রোহীদের অবরুদ্ধ ফোউয়া এবং কেফরায়া গ্রাম থেকে অবিলম্বে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার পক্ষপাতি।

তবে বিদ্রোহী গ্রুপগুলো বলছে, এটি মানুষজনকে আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজে সময়ক্ষেপণের একটি অজুহাত মাত্র। আলেপ্পো ত্যাগের কাজ এখন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলেই জানিয়েছে বিদ্রোহীপন্থি একটি টিভি স্টেশন।

পূর্ব আলেপ্পোয় থাকা এএফপি’র সাংবাদিক বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে হঠাৎ করে হামলা শুরু হওয়ায় সেখানে আটকে পড়া মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রাণভয়ে দৌড়াতে থাকেন।

গত ১৫ নভেম্বর থেকে পূর্ব আলেপ্পো দখলের জন্য সরকারি সেনারা অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত শহরটির ৯০ ভাগ দখল করে নিয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী।

সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির ব্যাপারে দামেস্কের আপত্তি আছে, বিশেষ করে আলেপ্পো থেকে সরে পড়া লোকদের সংখ্যা নিয়ে। কথা ছিল দুই হাজার বিদ্রোহী যোদ্ধা সরে যেতে পারবে। কিন্তু এখন ১০ হাজারের বেশি লোক আলেপ্পো ত্যাগের জন্য আসছে। কারা কারা চলে যেতে চায়, তার তালিকা করতে চায় সরকার। কেননা, সরে পড়াদের মধ্যে পণবন্দি কিংবা কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন।

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সিরীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এরদোয়ান বলেন, সিরীয় কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা সত্ত্বেও তারা আলেপ্পো থেকে লোকজনকে নিরাপদে বের করে আনতে করিডর তৈরির চেষ্টা করছেন। আলেপ্পোর পরিস্থিতিতে ‘খুবই নাজুক’ আখ্যা দিয়ে এরদোয়ান জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করবেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আলেপ্পো থেকে লোকজনকে নিরাপদে ইদলিব শহরে সরিয়ে এনে সেখান থেকে তুরস্কে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স

  •  
  •  
  •  
  •