রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির মুখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
অর্থনিতী ডেস্ক :
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে রাজস্ব আদায়ে বড় অংকের রাজস্ব ঘাটতির মুখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে ১৪ হাজার ৫৯৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। যদিও গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে মোট ৬৯ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৫৪ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।
যেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (তিন মাসে) আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও শুল্ক খাতেও লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে। প্রথম তিন মাসে মোট ৩৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
কিন্তু চতুর্থ মাসে এসে আয়কর, আমদানি-রপ্তানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) তিনটি খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআরের তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর পর্যন্ত (চার মাস) সময়ে আমদানি ও রপ্তানি শুল্কবাবদ ২০ হাজার ৯২৮ কোটি ৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যেখানে চার মাস শেষে এ খাত থেকে মাত্র ১৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক আদায় করতে পেরেছে এনবিআর। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৩৯৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে।
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মূসক বাবদ ২৭ হাজার ২৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ২৪ হাজার ৮৫৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এ খাতে ২ হাজার ১৭১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে।
রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতেও। এ খাতে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ২৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ১৪ হাজার ৫৫৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা আদায় করতে পেরেছে এনবিআর।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রথম চার মাসে রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ৫৩ হাজার ৩১২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, এনবিআর সম্প্রতি সময়ে করদাতাদের আগ্রহ তৈরিতে অব্যাহত রাজস্ব সংলাপ, আয়কর মেলা, আয়কর সপ্তাহসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তারপরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়াটা দুঃখজনক। তবে আশার কথার হচ্ছে, রাজস্ব আদায়ে আমাদের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাছাড়া সব সময় লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখা যায় না। আশা করি কর বছর শেষে এনবিআর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা কম আদায় হলেও চলতি অর্থবছরে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায় হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য বছরের রাজস্ব আদায়ের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব কম আদায় হয়। শেষ প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়। দেশজুড়ে রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এনবিআর। সঠিক হারে রাজস্ব পরিশোধ করা নাগরিক দায়িত্ব। সবার মাঝে এ চেতনাবোধ তৈরি করতে কাজ করছে এনবিআর। অর্থবছরের শেষে রাজস্ব ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এনবিআরের জন্য ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকা

