ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার মানহানি মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দ্য অ্যাপ্রেন্টিস অনুষ্ঠানের সাবেক শিক্ষানবীশ সামার জেরভস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। মামলায় যৌন হয়রানির বিষয়ে সত্য স্বীকার করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। বরং তিনি অনেক আগেই তার বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানি ও নারীদের সঙ্গে অনুপযুক্ত যৌন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প অভিযুক্ত হয়েছেন ‘বার বার চুমু খাওয়া ও মেয়েদের শরীর হাতড়ে বেড়ানো’র মতো গর্হিত আচরণের কারণে। মিসেস জেরভস ট্রাম্পের উপস্থাপিত দ্য অ্যাপ্রেন্টিস এর পঞ্চম পর্বের বিষয়ে আলোচনার সময় এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ করেন।

ট্রাম্পের অভিষেকের মাত্র অল্প সময় আগে, জেরভসের আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড লস এঞ্জেলস ভিত্তিক এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে ‘যৌন শিকারি’ উল্লেখ করে জেরভসের প্রতিবেদন পড়ে শোনান।

তিনি বলেন, ভালো সময় নয়, খারাপ সময় নয়, আমরা ধৈর্যশীল ছিলাম। কিন্তু সময় অতিক্রান্ত হয়েছে।’ ‘এখন সময় পরিণতি মোকাবেলার, নারীরা ইতিহাসের পাদটীকা নন’— যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তার মক্কেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা অনাকাঙ্খিত যৌন লালসার শিকার হয়েছিলেন এবং ঘটনা ঘটার পর পরই তার পরিবার ও বন্ধুদের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন।’

অলরেড বলেন, ‘তিনি (জেরভস) এখন জনগণের কাছে যেতে পারে না। যেহেতু আমার মক্কেল ট্রাম্পের বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সেহেতু একটি পরীক্ষা, নিজেকে ধিক্কার কিংবা কৃতকর্মের জন্য লজ্জা প্রকাশ করা উচিত।’

এর আগেও বেশ কয়েকজন নারী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। তবে এমন অভিযোগে মামলা দায়েরের ঘটনা এই প্রথম।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে ‘অ্যাকসেস হলিউড’ নামের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বিলি বুশকে বলছেন, তিনি নারীদের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলেও নিজে ‘তারকা’হওয়ায় পার পেয়ে যাবেন।

ওই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার দিন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি যা বলেছি এবং যা করেছি তার জন্য অনুতপ্ত। এক দশক আগের যে ভিডিও আজ প্রকাশিত হয়েছে, তা আমার ওই ধরনের আচরণেরই একটি।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাকে যারা চেনেন, তারা জানেন, এই কথাগুলো আমার প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে যা বলেছিলাম, তা ছিল ভুল এবং তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’

ওই ঘটনার পর ‘অ্যাকসেস হলিউড’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক চাকরিচ্যুত হন। রিপাবলিকান নেতা ও হাউজ স্পিকার পল রায়ান ট্রাম্পের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

অনেক নারীই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলতে থাকেন। তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগকে তারকাখ্যাতি পাওয়ার উপায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অভিযোগকারীদের মিথ্যাবাদীও বলেন।
সূত্র : দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: