সামরিক শক্তিতে কোন দেশ বেশি এগিয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ চেষ্টা করে নিজেদের সামরিকখাতকে উন্নত করার। এজন্য তারা এ খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে। আর এসব অর্থের সিংহভাগই যায় লোকবল এবং অস্ত্রশস্ত্রের পেছনে। বলা হয়ে থাকে, যে দেশের সামরিক খাতে যত বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে সেই দেশে শক্তির দিক থেকে তত বেশি এগিয়ে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে বর্তমানে বিশ্বে সামরিক শক্তিতে প্রথেমেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরের তিনটি স্থান দখলে রেখেছে এশিয়ার তিনটি দেশ। এর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ ভারত।

এই জরিপটি করা হয়েছে ১০৬ দেশের উপরে। জরিপে প্রাধান্য পেয়েছে দেশগুলোর সামরিকখাতে বাজেটের পরিমাণ, তাদের জনশক্তি এবং তাদের সামরিক বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্রগুলোর পরিমাণ।

জরিপে দেখা যায়, বিশ্বে নিজেদের সামরিক খাতে সবচেয়ে ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র। জানা যায়, বছরে দেশটি তার সামরিক খাতে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করে থাকে। সামরিক খাতে লোকবলের দিক দিয়েও এগিয়ে রয়েছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। দেশটি চীনের চেয়ে সামরিক খাতে কম অর্থ ব্যয় করলেও দেশটির সামরিক শক্তি চীনের থেকে একধাপ উপরে। জানা যায়, রাশিয়া তার সামরিক খাতে বছরে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে যেখানে চীন করে ১৬১ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া চতুর্থ স্থানে থাকা ভারত নিজ দেশের সামরিকখাতে ৫১ বিলিয়ন ডলার খরচ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ১৯টি এয়ারক্রাফট বা হেলিকপ্টার কেরিয়ার (বিমানবাহী রণতরী), ৫৮৮৪টি ট্যাংক, ১৩৭৬২টি এয়ারক্রাফট এবং রয়েছে প্রায় এককোটি সক্রিয় কর্মকর্তা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ার রয়েছে একটি মাত্র এয়ারক্রাফট কেরিয়ার বা বিমানবাহী রণতরী। তবে দেশটির সামরিক বাহিনীতে ট্যাংক রয়েছে ২০২১৫টি, এয়ারক্রাফট ৩৭৯৮টি। এছাড়া এ খাতে সক্রিয় প্রথম সারির কর্মকর্তা রয়েছেন ৭,৬৬,০৫৫ জন।

তৃতীয় স্থানে থাকা চীনের একটি মাত্র বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। এছাড়া দেশটির সামরিক বাহিনীতে রয়েছে ৬৪৫৭টি ট্যাংক, ২৯৫৫টি এয়ারক্রাফট, অস্ত্রধারী বাহিনীর ২৩,৩৫,০০০ সদস্য।

এদিকে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সামরিক বাহিনীতে রয়েছে, ৩টি এয়ারক্রাফট কেরিয়ার, ২১০২টি এয়ারক্রাফট। এছাড়া বাহিনীটিতে সক্রিয় প্রথম সারির কর্মকর্তা রয়েছেন ১৩,২৫,০০০।

তালিকার প্রথম ২৫টি দেশের শেষের সারিতে রয়েছে কানাডা, সৌদি আরব এবং উত্তর কোরিয়া।

কানাডা সামরিকখাতে বছরে ব্যয় করে ১৫ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরব ৫৬ বিলিয়ন ডলার এবং উত্তর কোরিয়া ৭ বিলিয়ন ডলার।

এদের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার রয়েছে ৯৪৪টি এয়ারক্রাফট, ট্যাংক রয়েছে ৫ হাজার ২৫টি। তবে দেশটির কোনো বিমানবাহী রণতরী নেই। এছাড়া সৌদি আরবের রয়েছে ৭৯০টি এয়ারক্রাফট, ১১৪২টি ট্যাংক। তাদেরও কোনো বিমানবাহী রণতরী নেই।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সামরিখ খাতে ব্যয় ও সামরিক সরঞ্জমাদির পরিমাণ

ফ্রান্স- সামরিকখাতে বাজেট-৩৫ বিলিয়ন ডলার এয়ারক্রাফট কেরিয়ার ৪টি, ট্যাংক-৪০৬টি, এয়ারক্রাফট- ১৩০৬টি। যুক্তরাজ্যের সামরিকখাতে বাজেট- ৪৫ বিলিয়ন ডলার, হেলিকপ্টার কেরিয়ার রয়েছে ১টি, ট্যাংক-২৪৯টি, এয়ারক্রাফট-৮৫৬টি। জাপানের সামরিকখাতে বাজেট ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দেশটির হেলিকপ্টার কেরিয়ার রয়েছে ৪টি, ট্যাংক-৭০০টি, এয়ারক্রাফট-১৫৯৪টি।

তুরস্কের সামরিকখাতে বাজেট-৮ বিলিয়ন ডলার, এয়ারক্রাফট কেরিয়ার-০, ট্যাংক- ২৪৪৫টি, এয়ারক্রাফট-১০১৮টি। জার্মানি-সামরিকখাতে বাজেট-৩৯ বিলিয়ন ডলার, এয়ারক্রাফট কেরিয়ার-০, ট্যাংক- ৫৪৩টি, এয়ারক্রাফট-৬৯৮টি।

ইতালির সামরিকখাতে বাজেট-৩৪ বিলিয়ন ডলার, এয়ারক্রাফট কেরিয়ার-৮২২টি, ট্যাংক- ২০০টি, এয়ারক্রাফট-৮২২টি। দক্ষিণ কোরিয়া- সামরিকখাতে বাজেট-৪৩ বিলিয়ন ডলার, এয়ারক্রাফট কেরিয়ার-১, ট্যাংক- ২৬৫৪টি, এয়ারক্রাফট-১৪৭৭টি।

মিশরের সামরিকখাতে বাজেট-৪ বিলিয়ন ডলার। দেশটির রয়েছে ট্যাংক- ৪১১০টি, এয়ারক্রাফট-১১৩২টি। পাকিস্তানের সামরিকখাতে বাজেট-৭ বিলিয়ন ডলার। দেশটির সামরিক বাহিনীর রয়েছে এয়ারক্রাফট কেরিয়ার-০টি, ট্যাংক- ২৯২৪টি, এয়ারক্রাফট-৯৫১টি। সামরিকখাতে ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ইন্দোনেশিয়া। এছাড়া দেশটির রয়েছে এয়ারক্রাফট কেরিয়ার-০টি, ট্যাংক- ৪১৮টি, এয়ারক্রাফট- ৪৪১টি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: