মুরগির খামার করে স্বাবলম্বী আমিরুজ্জামান
নিউজ ডেস্কঃ
লেখাপড়ার পাশাপাশি শখের বসে ২০০০ সালে ব্রয়লার মুরগি পালতে শুরু করেন আমিরুজ্জামান (৪২)। ২০০ মুরগি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ খামার শুরু করেন তিনি। এতে লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মুরগির সংখ্যা। এখন তার খামারে চারটি শেডে ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা ১৩ হাজার। চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার কাজির কামতা গ্রামে ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন তিনি।
জানা যায়, চাকরী না করার ভাবনা থেকেই তিনি ব্রয়লার মুরগির খামার শুরু করেছেন। প্রথমে মাত্র ২০০টি মুরগি নিয়ে একটি ছোট খামার করেন। পরে জমি ভাড়া নিয়ে একটি বড় শেড তৈরি করেন। সেখান থেকে লাভবান হওয়ায় ধীরে ধীরে চারটি শেড তৈরি করেছেন। সেই খামারে প্রতি ব্যাচে এখন এক হাজার ৩০০ ব্রয়লার মুরগি পালন করছেন তিনি। মুরগি পালন করে আমিরুজ্জামান নিজের খরচের পাশাপাশি পরিবারের খরচও মেটাচ্ছেন। এছাড়া তার মুরগির খামার দেখে আশপাশের অনেক তরুণই খামার করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
আরও জানা যায়, প্রথমে দুদিনের মুরগির বাচ্চা কিনে আনেন তিনি। পরে বাচ্চাগুলোকে এক থেকে সাত দিনের মাথায় রানীক্ষেত রোগের ওষুধ দিতে হয়। আবার ১০ থেকে ১৫ দিনের মাথায় ওষুধ দিতে হয়। বিভিন্ন সময়ে মুরগির বাচ্চার বাজারমূল্য কম-বেশি হয়। সাধারণত তিনি এক দিনের বাচ্চা কেনেন প্রতিটি ২৫-৩০ টাকায়। বাচ্চা মুরগি প্রায় ৩৫ দিন পালন করলে দুই কেজি ওজনের হয়ে থাকে, এতে খরচ হয় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। সেই মুরগি অধিকাংশ সময় ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। তিনি বছরে প্রায় ১০ বার মুরগির বাচ্চা খামারে তোলেন বলে জানান।
আমিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার টিনশেড খামারটিতে ১৩ হাজার মুরগি রয়েছে। সহজ শর্তে কোনো ব্যাংক-বিমা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঋণ দিলে আগামীতে খামারটি বড় করতে চাই।’ তার সাফল্য দেখে আশপাশের বেকার যুবকরা ব্রয়লার মুরগি পালন শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
শাহরাস্তি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাকসুদ আলম বলেন, ‘শাহরাস্তি উপজেলায় ব্রয়লার মুরগির খামার আছে ৯৪টি। অনেকেই ব্রয়লার মুরগির খামার করে সফল হয়েছেন। দেশের মুরগির মাংসের মোট লক্ষ্যমাত্রার সিংহভাগই আসছে ব্রয়লার মুরগি থেকে। আগামীতে আশা করি এর পরিধি আরও বাড়বে।’

