কৃষি শিল্পায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান অর্থনীতিবিদের

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা ও করোনাভাইরাস মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষি শিল্পায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ‘শিল্পায়ন: শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ শিরোনামে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তারা।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের সদ্য প্রকাশিত ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র: ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ গবেষণাগ্রন্থটির বিষয়বস্তু ঘিরে ১৩ সিরিজের আলোচনা সভার এ ষষ্ঠ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

ভার্চুয়াল সভায় অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ পরিস্থিতি এড়াতে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে আমাদের ফিরে যেতে হবে।

অধ্যাপক ড. শফিক-উজ জামান বলেন, এটা সঠিক যে কৃষি খাতটি নারীদের জন্য ব্যাপক আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু আজ নদী দূষণের পেছনে শিল্পকারখানা ও তার বর্জ্য ভূমিকা রাখছে, মিঠা পানি ও উর্বর ভূমি ধ্বংস হচ্ছে প্লাস্টিকে।

কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের সুবিধাগুলো উল্লেখ করে অধ্যাপক শফিক-উজ জামান বলেন, এতে কৃষিপণ্যের দাম বাড়বে। কৃষক আরও টাকা পাবে। কৃষকের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে। মনে রাখতে হবে কৃষক একইসঙ্গে উৎপাদক ও শিল্পপণ্যের ক্রেতা।

শফিক-উজ জামান বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান একসঙ্গে চলে না। শ্রমিক ছাঁটাই না করে কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায় তা ভাবতে হবে। আভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ, বৈচিত্র্যপূর্ণ কৃষিপণ্য তৈরি ও কৃষি গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান এবং জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের ২০ বছরের গবেষণার ফসল ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র: ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও মুক্তবুদ্ধি প্রকাশনা। ৭১৬ পৃষ্ঠার এ বইটি সম্পর্কে অভিনন্দনবাণী দিয়েছেন ভাষাবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও সমাজ সমালোচক অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি। কৃতজ্ঞতাপত্র, মুখবন্ধ ও মোট ১২টি অধ্যায় ছাড়াও বইটিতে আছে ২৭টি সারণি, ৩৯টি লেখচিত্র, তথ্যপঞ্জি ও নির্ঘণ্ট।

অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক-উজ জামান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান।

  •  
  •  
  •  
  •