যে কারণে করোনা টিকা গ্রহণে রক্ত জমাট বাধতে পারে
এ এস এ ফারূকী, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন নেওয়ায় কিছু কিছু দেশে রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বাধার যে ঘটনা ঘটছে তার কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি, চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা পরীক্ষার মাধ্যমে এ ধরণের রোগীকে শনাক্ত করতে এবং তাদের জন্য সঠিক চিকিৎসা প্রদানের উপায়ও বের করতে সক্ষম হয়েছেন।
বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান করে জানা গেছে, কিছু মানুষের শরীরে এই ভ্যাক্সিনের কারণে এমন কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে যা প্ল্যাটিলেট ফ্যাক্টর ৪ (পিএফ৪) কে আক্রমণ করতে পারে ৷ শরীরে প্ল্যাটিলেট হলো সেইসব কণিকা যা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে। আর পিএফ৪ হলো এমন এক প্রকার প্রোটিন যা মূলত সেই প্ল্যাটিলেট এবং হেপারিন (রক্ত জমাট বাধতে বাধাদানকারী) এর মিশ্রণ। এই পিএফ৪ মূলত রক্ত চলাচল সচল রাখতে ভূমিকা পালন করতে কে দুটোর মধ্যে (প্ল্যাটিলেট এবং হেপারিন) একটা ভারসাম্য রক্ষা করে। ভ্যাক্সিনের ফলে শরীরে সৃষ্ট অ্যান্টিবডি যখন পিএফ৪ আক্রমণ করে, তখন শরীরে রক্ত জমাট বাধা থেকে রক্ষা করার আর কেউ থাকেনা এবং ফলশ্রুতিতে রক্ত জমাট বাধে। সাইন্স নিউজ এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
গবেষণায় রক্ত জমাট বাধে এমন ২৩ জন রোগীর মধ্যে ২১ জনের শরীরেই পিএফ৪ এর বিরুদ্ধে দুর্লভ অ্যান্টিবডির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৬ জন মহিলার মধ্যে যে ৫ জনের রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছে তাদের শরীরেও এই এন্টিবডি পাওয়া গেছে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একজন ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজিস্ট, ড. কনর বলেন “যেহেতু আমরা এই উপসর্গ সম্পর্কে জানতে পেরেছি তাই এখন আমরা এর প্রতিকারও করতে পারব এবং কোনো রোগীর এ ধরনের সমস্যা এখন দ্রততার সাথে বের করা সম্ভব।”
এই রক্ত জমাটের ঘটনার সাথে আরেকটি ঘটনার মিল পাওয়া যায়। সেটি হল হেপারিন (রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয় এমন উপাদান) উদ্ভুত থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (এক ধরনের রক্ত জমাটজনিত সমস্যা)। এই সমস্যার কারনে রক্ত জমাটে বাধা দেয় এমন হেপারিন জাতীয় ঔষধ শরীরে প্রবেশ করালে উল্টো রক্ত জমাট বাধে। এসব ঔষধ পিএফ ৪ এর সাথে যুক্ত হয়ে এক প্রকার মিশ্রণ তৈরি করে এবং অ্যন্টিবডি এই মিশ্রণকে আক্রমণ করে। তাই এই সমস্যার সমাধানে হেপারিন জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা আগুনে ঘি ঢালার মত। তাই চিকিৎসকরা এর প্রতিকারে বিকল্প অন্য কোন ঔষধ ব্যবহার করছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জনসন অ্যান্ড জনসন এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সিন নেওয়ায় কিছু কিছু মানুষের শরীরে জমাট বাধার ঘটনা ঘটে। তেমনই এক রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ফাঁকা স্থান (সাইনাস) যেখানে সাধারণত রক্ত প্রবাহিত হয়, সেখানে রক্ত জমাট বাধার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং রোগীর মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

