করোনা প্রতিরোধকারী জিনের সন্ধান মিলেছে!
এস এম আবু সামা আল ফারুকী:
করোনাভাইরাসের জন্য দায়ী সার্স কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে এমন একটি জিনের সন্ধান পেয়েছে বিজ্ঞানীরা । যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্যানফোর্ড বার্নহাম প্রিবিস মেডিকেল ডিসকভারি ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক মানবদেহে অবস্থিত এই জিন আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কারের ফলে কোভিড-১৯ সম্পর্কে বিস্তর জানতে এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন গবেষক দল।
এ বিষয়ে স্যানফোর্ড বার্নহাম প্রিবিসের অধ্রাপক এবং ইমিউনিটি ও প্যাথোজেনেসিস প্রোগ্রামের ডিরেক্টর সুমিত কে. চন্দ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের আক্রমণে শরীরের কোষগুলো কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সে বিষয়ে আমরা বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাই। এতে কোন কোন বিষয়গুলো শরীরে করোনা ভাইরাস বিস্তার ত্বরান্বিত করে কোনটি মন্থর করে তা বের করার চেষ্টা করেছি আমরা’। এই গবেষণায় ভাইরাস আক্রমণকারী কোষে কি কি পরিবর্তন করে এবং ভাইরাসের কোনো দুর্বলতা আছে কিনা সেটিও বের করার চেষ্টা করা হয়, যাতে এর বিরুদ্ধে সঠিক প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়।
করোনা মহামারীর কিছুদিনের মধ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানিরা এক ধরনের প্রোটিন আবিষ্কার করে যা ভাইরাসের আক্রমণের ফলে রোগীর দেহে তৈরি হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইন্টারফেরন বলে। মি. সুমিতের দল এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই প্রোটিনের কারণে মানবদেহে কোন জিন সক্রিয় হচ্ছে তা বের করার চেষ্টা করে। এই জিন সার্স কোভ-২ এর আক্রমণ প্রতিহত করতে ভুমিকা রাখে।
পরীক্ষার মাধ্যমে অনুসন্ধানকারী দল কোভিড-১৯ এর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এমন কিছু এন্টিবডি (ইমিউনো সিরাম গ্লোবিউলিনের) এর সন্ধান পায়। এই ইমিউনো সিরাম গ্লোবিউলিন রক্তরসে বিদ্যমান প্রোটিন উপাদান যা আমাদের রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। মি. সুমিত জানান যে, তারা এরকম ৬৫ টি ইমিউনো সিরাম গ্লোবিউলিনের সন্ধান পেয়েছেন যা ভাইরাসের কোষে প্রবেশ এবং বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমনকি এই প্রোটিনগুলো অন্যান্য কিছু রোগ যেমন ফ্লু, এইচ আইভি বা এইডস এর বিরুদ্ধেও কাযকর প্রমাণিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ টি ইমিউনো সিরাম গ্লোবিউলিন সার্স কোভ-১ এবং সার্স কোভ-২ এর সংখ্যা বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।
অনুসন্ধান দলের আরেক সদস্য লরা মার্টিন বলেন “আমরা যে তথ্যগুলি পেয়েছি তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রোগের মাত্রার সাথে ইমিউনো সিরাম গ্লোবিউলিনের জেনেটিক বৈচিত্রের সম্পর্ক আছে কিনা তা নিয়ে এখনো আরো অনেক অনুসন্ধান প্রয়োজন।” এছাড়া ভাইরাসের প্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে তাই সে বিষয়টিও বিবেচনা করছেন গবেষক দল। মি. সুমিত মনে করেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত গবেষণার উপযুক্ত সময় যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মহামারী পুনরায় দেখা দিলে আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি।
সুত্রঃ সায়েন্স নিউজ

