করোনা কেড়ে নিয়েছে শিশুদের ঈদ আনন্দ
নিউজ ডেস্কঃ ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানেই নতুন জামা। শিশুরা ঈদকে এভাবেই ভাবে। সে যে ঈদই হোক না কেন! কিন্তু করোনার মহামারিতে বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে বন্দি হয়েছে শিশুদের সেই বর্ণিল ঈদ।
হৈ-হুল্লোড়ে প্রকম্পিত হয়ে ওঠা ঈদ উৎসব যেন নিরুত্তাপ ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। উত্তেজনা ও আড়ম্বরহীনতা অনাবিল খুশির ঈদকে যেন একেবারেই নিস্তব্ধ করে দিয়েছে। উৎসবের সড়কে নেমেছে অজানা আতঙ্ক আর নিরবতা, চাপা পড়েছে ঈদের আনন্দ।
করোনার কারণে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি শহরের সব শিশু এখন ঘরবন্দি। সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নিজেদের খুব বেশি প্রয়োজনে বড়রা ঘর থেকে বেরুতে পারলেও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে শিশুরা।
তাছাড়া করোনা আতঙ্ক তো আছেই। যা শিশুদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। এ সময় শিশুদের দিকে বিশেষ মনোযোগ ও তাদের হাসিখুশি রাখার উদ্যোগ নিতে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন শিশু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।
গ্রামের শিশুরা সীমিত পরিসরে ঘোড়াঘুরির সুযোগ পেলেও শহরের শিশুরা সে সুযোগ পাচ্ছে না ফলে ঈদের সকল আনন্দ মলিন হয়ে যাচ্ছে।
পরিবারের খুদে সদস্যদের নিয়ে যাওয়া হবে না শিশু পার্ক বা চিড়িয়াখানায়। আবদার বায়না যতই হোক ঘরে বসেই তা সামাল দেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা বাবা মায়ের।

অভিভাবকরা বলেন, বাচ্চারা বের হওয়ার জন্য কান্নাকাটি করে। বের হতে পারছি না। কতক্ষণই বা এভাবে থাকা যায়। অন্যবার তো বাইরে নিয়ে যেতাম। এবার ত কিছুই হচ্ছে না।
শহরে বাড়ির ছাদেই এখন গড়ে উঠেছে শিশুদের খেলার জগৎ। কেউ ইচিং-বিচিং, কেউবা কানামাছি আর কেউ ঘুড়ি উড়িয়ে কিংবা নিজেদের মধ্যে সমাবেশ ঘটিয়ে খোশগল্পে মেতে উঠেছে।
করোনা ভীতি কাটিয়ে মানুষ কিছুটা দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও, বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন গ্রামের নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। সন্তানের জন্য ঈদে কিছুই কিনতে পারেননি অনেকে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা কালীন বিশেষ করে ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময়গুলোতে শিশুদের দিকে বিশেষ মনোযোগ ও তাদের হাসিখুশি রাখার উদ্যোগ নিতে হবে অভিভাবকদের। ঘরবন্দি অবস্থায় থাকতে গিয়ে তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ তৈরি হতে পারে। শিশুরা যাতে মানসিক চাপমুক্ত পরিবেশ পায় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
‘করোনার এই সময়ে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বিভিন্ন ইনডোর খেলায় ব্যস্ত রাখা, রং পেনসিল দিয়ে আর্ট বোর্ডে ছবি আঁকার ব্যাপারে উৎসাহিত করা এবং খেলার ছলে পড়ালেখা করানো যেতে পারে। এছাড়া শিক্ষামূলক বিভিন্ন গল্প শোনানো যেতে পারে শিশুদের’।
চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে থাকতে শিশুরাও হাঁপিয়ে উঠছে, তাই তারা বিরক্ত হতে পারে, রাগ করতে পারে, হতাশ হতে পারে, দুষ্টুমি বেড়ে যেতে পারে। এটা স্বাভাবিক। এ কারণে বাচ্চাকে বকাঝকা না করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

