পশুর হাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারীরা

নিউজ ডেস্ক:

ঘনিয়ে আসছে কোরবানি। আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে ইতিমধ্যে গবাদিপশু বিক্রির জন্য খামারীরা প্রস্তুত। এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় খামারীরা। ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। অথচ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার গবাদিপশুর হাটগুলো শূন্য পড়ে রয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই কোরবানির পশুর হাটগুলো পশু বিক্রি জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে। প্রশাসনের নির্দেশ পেলে তারা বেচা বিক্রি শুরু করবেন। উচ্চ মূল্যের কারণে শংকিত ক্রেতারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির জন্য গবাদি পশুর হাট বসানো হবে। ওইভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি রয়েছে। তবে কয়টি স্পটে পশুর হাট বসবে সেটি মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক দূরাবস্থার কারণে পশুখাদ্য ও লালনপালনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা পশু বিক্রি করে উঠবে কি না সেই চিন্তা খামারীদের মধ্যে জেঁকে বসলেও। ক্রেতারা তা মানতে নারাজ। তবে পশুর হাট বসলে এ পরিস্থেতি বদলে যেতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

সরে জমিন ঘুরে দেখা যায়, বোয়ালখালীতে ৬টি গবাদিপশুর বড় হাট বসে। উপজেলার মুরাদ মুন্সির হাট, নুরুল্লাহ মুন্সির হাট, হাজীর হাট, কালাইয়ার হাট, চৌধুরী হাট ও শাকপুরা চৌমুহনী বাজার,কালুঘাটসহ আরো বেশ কিছু স্থানে কোরবান উপলক্ষে গবাদিপশু বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনো পশু বিহীন ওইসব স্থান ফাঁকা পড়ে আছে।

উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা খামারী মুহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘গোখাদ্যের মূল্য বেড়েছে। বাজারে ভূসি কেজি প্রতি ৪০ টাকা, সয়াবিন কেজি প্রতি ৫২ টাকা, মটরের ছোলা কেজি প্রতি ৬৫ টাকা, খৈল ৪৫ টাকা। এ ছাড়া প্রায় সব রকমের গোখাদ্যের দাম বাড়তি। ’যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ঋণ নিয়ে ৪টি গরু মোটাতাজা করেছেন তিনি। ভালো দাম না পেলে লোকসান গুণতে হবে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারে কোরবানির জন্য বোয়ালখালীতে ৩৮ হাজার ২৯০টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ২৬হাজার ১০০টি, মহিষ ৪৪৫৬টি, ছাগল ৬হাজার ১২৯টি, ভেড়া ১হাজার ৬০৮টি। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও বোয়ালখালীর হাটগুলোতে এক তৃতীয়াংশ গরু নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে খামারীদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে সরকার। তাদেরকে ইতিমধ্যে গোখাদ্য ও ১ম পর্যায়ের প্রায় ১৩’শ জনকে  প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে ১ হাজার জন প্রণোদনার টাকা তাদের মোবাইলের মাধ্যমে বুঝে পেয়েছেন। বাকী প্রায় ৩’শ জনকে পর্যায়ক্রমে  কয়েকটি ধাপে প্রণোদনা দেওয়া হবে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় ১৩’শ খামারীকে সর্বোনিম্ম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৫’শ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। যারা বাকী রয়েছেন তারাও পেয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ বলেন, তারা বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় ১৩’শ খামারীকে ১০-২২ হাজার ৫’শ টাকা করে প্রণোদনা দিচ্ছেন তার মধ্যে ১ হাজার জন পেয়ে গেছেন। তবে বোয়ালখালী উপজেলার খামারীদের জন্য সরকার কত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন তা জানাতে এবং খামারীদের তালিকা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: , , , , ,