শোক দিবসে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ালো বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, বাকৃবি

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। ইতিহাসের জঘন্যতম, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে ১৯৭৫ সালের এই কালরাতে। এ দিন গোটা বাঙালি জাতিকে কলঙ্কিত করেছিল সেনাবাহিনীর উচ্ছৃঙ্খল কিছু বিপথগামী সদস্য। সেদিন রাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক ভবনে ঘাতকের নির্মম বুলেট বিদ্ধ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বুক। সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতির জনককে।

রবিবার (১৫ আগস্ট ২০২১) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দরিদ্র, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

এ সময় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন, বাকৃবি শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো বাংলার মানুষ না খেয়ে থাকবে না, কর্মহীন থাকবে না, অশিক্ষিত থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দেশের লক্ষ লক্ষ গৃহহীনদের গৃহ প্রদান করেছে শেখ হাসিনার সরকার, যা সারাবিশ্বে বিরল।

বাকৃবি গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আমাদের সোনার বাংলা গড়তে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্ব মহামারি ও মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে সাহসের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে।

বাকৃবি ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ.কে.এম জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ সবসময় দেশের অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বাকৃবিতে দরিদ্র দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে তারা। ভবিষ্যতেও বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের মত প্রগতিশীল সংগঠনগুলো একত্রে কাজ করে করোনা মহামারিসহ সকল দুর্যোগ মোকাবেলা করবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মনজুরুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমরা ১৯৭১ সালেই স্বাধীনতা অর্জন করেছি কিন্তু বঙ্গবন্ধু যে মুক্তির কথা বলেছিলেন সেই গরিব দুঃখি মানুষের মুক্তি অর্জন আজও পাইনি। বঙ্গবন্ধুর সেই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনায় সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, বাকৃবি শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনতা নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়তে কিন্তু কিছু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে তিনি তা করে যেতে পারেন নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশের গরিব মানুষকে ঘর দিয়েছেন আগামীতে তার নেতৃত্বে দেশে কোন দারিদ্রতা থাকবে না। আজ আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের মহাসচিব আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমের নির্দেশে এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছি।

তিনি সরকারের নিকট দুটি দাবি জানান। সেগুলো হলোঃ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে এখনো যে ৫ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয় নি তাদের দেশে ফিরিয়ে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে এবং যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মূল কুশীলব এবং সুবিধাভোগীদেরও বিচার করে জাতিকে বঙ্গবন্ধু হত্যার দায় মুক্ত করতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ কাজী এবং সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল সহ বাকৃবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীবৃন্দ।

বাকৃবির হেলিপ্যাডে বেলা ১১ টায় অনুষ্ঠিত এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে প্রায় দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •