ওয়ান বাংলাদেশের উদ্যোগে “শোকাবহ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ওয়ান বাংলাদেশ ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে “শোকাবহ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাত ৮.৩০ মিনিটে ভার্চ্যুয়ালি এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভার শুরুতেই ওয়ান বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ রশিদুল হাসান বলেন, আগস্ট মাস বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত শোকাবহ একটি মাস। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলার রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই আগস্ট মাসেই হয়েছে গ্রেনেড হামলা এবং সিরিজ বোমা হামলা যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। একসময় এদেশে বঙ্গবন্ধুর মত মহৎ নেতার নাম নেওয়া যেতো না, রাজাকারদের রাজাকার বলা যেতো না, বাংলাদেশের পতাকা উড়তো রাজাকারের গাড়িতে কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল এবং কঠোর পদক্ষেপে আমরা এদেশে যুদ্ধাপরাধী বিচার দেখতে পেয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণেই আজ জাতি কলঙ্ক মুক্ত হতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের খুনিরা কিন্তু এখনো এদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যেকোনো মূল্যে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকাকে কলুষিত করতে তারা তৎপর। জাতির এই শত্রুদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে হবে। তাহলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
এ সময় ওয়ান বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এ.কে.এম. জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘ একুশ বছর আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার সঠিক ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। এদেশের একটি বড় জেনারেশন মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই আমাদের কাজ হবে গবেষণালব্ধ আসল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং দেশের সকল মানুষকে মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানানো।
ড. জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেসময় বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বাকশাল গঠনের কারণে নাকি এই হত্যাকান্ড। অথচ বাকশাল গঠনের প্রক্রিয়া তখনো সম্পূর্ণ হয় নি এছাড়া স্বাধীনতার ঘোষক নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে দেয়ার বৃথা চেষ্টা চালিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। এমনি স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মত দিনেও বঙ্গবন্ধুর নাম নেওয়া হয় নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতারাই নাকি বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত। যদি তাই হবে তাহলে ইনডেমনিটি বিল কেন করা হয়েছে? এমন করে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নিয়ে, বাংলাদেশি নাকি বাঙালি নিয়েও ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের কাজে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান কিন্তু আত্মসমর্পণ করে চলে গেছে তা নয়, তারা রেখে গেছে তাদের প্রেতাত্মাদের। যাদের ষড়যন্ত্রে আমরা হারিয়েছি আমাদের জাতির পিতাকে। সেইসব পাকিস্তানি প্রেতাত্মা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আটকে দেওয়ারও প্রচেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর মনোবলের কারণে এদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অভিন্ন সত্ত্বা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন বাংলাদেশ এবং এদেশের অভাগা মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে গেছেন। এদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাঙালিকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করেছেন। ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছেন কিন্তু সে কাজ সম্পূর্ণ করে যেতে পারেন নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে পিতার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
এসময় বঙ্গবন্ধু হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব ও সুবিধাভোগীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সমার্থক। বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। স্বাধীনতা বিরোধীরা সবসময় দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে তারা রাতের আঁধারে হত্যা করেছে এবং বঙ্গবন্ধু কন্যাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করতে চেয়েছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ান বাংলাদেশ ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি ড. মোঃ মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আজহারুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক প্রফেসর ড. চয়ন গোস্বামী, প্রফেসর ড. ইয়াহিয়া খান।
এর আগে ওয়ান বাংলাদেশ ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট ২০২১ বাকৃবির বঙ্গবন্ধু চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

