টেকনাফে আনসার ক্যাম্পে হামলা- নেতৃত্বে এক পাকিস্তানি

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ক্যাম্প কমান্ডারকে হত্যা এবং অস্ত্র-গুলি লুটের ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন নুরুল আবসার নামে এক আসামি।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (আদালত নং ৬) বিচারক সিরাজ উদ্দিন তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার পরিদর্শক (ওসি,তদন্ত) কবির হোসেন বলেন, গ্রেফতার হওয়া নুরুল আবসারকে আদালতে আনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম পুলিশ বলছে, মিয়ানমার ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডরিটি অর্গানাইজেশন -আরএসও নিজেদের অস্ত্রের মজুদ বাড়াতেই কক্সবাজারের আনসার ক্যাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ অন্ত্র ও গুলি লুট করে নিয়ে যায়। আর এই আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছে আরএসও নেতা উর্দুভাষী এক পাকিস্তানী নাগরিক। মূলত হামলার দিনই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আরএসও’র পাঁচ সশস্ত্র সদস্য। হামলার সময় তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় ৬ বাংলাদেশি এবং ক্যাম্পের আরেও ৯ জন রোহিঙ্গা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডি আই জি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার মূল পরিকল্পনায় যে রয়েছে সে উর্দুভাষী এবং পাকিস্তানের নাগরিক। বর্তমানে সে পাকিস্তানে আসে।’

পুলিশের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, হামলার জন্য সন্ত্রাসীরা বেছে নেয় মধ্যরাতকে। কারণ তখন সাগরে জোয়ার থাকায় তাদের ব্যবহৃত নৌকাটি একদম ক্যাম্পের পাশেই নিয়ে রাখা হয়েছিলো। হামলা শেষে ভোর চারটার মধ্যে তারা ওই নৌকাযোগে পুনরায় মিয়ানমার পৌঁছে লুণ্ঠিত অস্ত্র নিজেদের গোপন আস্তানায় রেখে আসে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডি আই জি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যদি এটি কোনভাব উদ্ধার করা সম্ভব না হয় তবে আমাদের সিমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে মিয়ানমার সিমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে সেখানে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাব।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে ভোররাতে টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ব্যারাকে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। সে সময় আনসার বাহিনীর কমান্ডার অফিসার মো. আলী হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। লুট করা হয় ক্যাম্পের ১১টি অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: