দিনবদলের স্বপ্নে “ভালো কাজের হোটেল”

সাবরিন জাহান:

বাকি সব হোটেলের মত এখানে নেই চেয়ার টেবিলের আওয়াজ,বিলের ব্যস্ততা। নেই সুসজ্জিত চারদেয়ালের কাঠামো। খোলা আকাশের নিচেই একবেলা উদরপূর্তি করেন এই হোটেলে আসা অতিথীরা।তবে তা টাকার বিনিময়ে নয় বরং ভালো কাজ করলেই এক বেলা ভালো খাবার পাচ্ছেন তারা।

ছিন্নমূল,অসহায়,দরিদ্র পথশিশু, ভবঘুরে মানুষ যারা পেট পুরে এক বেলা খেতে পারে না, তাদের জন্যই ইউথ ফর বাংলাদেশ নামের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘ভালো কাজের হোটেল’। এখানে শুধু বলতে হয়, সর্বশেষ কোন ভালো কাজটি তিনি করেছেন।

বিভিন্ন ভালো কাজের সমন্বয় হয় এখানে। যেমন অন্ধ মানুষকে রাস্তা পারাপারে সাহায্য করা,অথবা কোনো রিক্সাচালকের অসুস্থ অসহায় যাত্রীকে হাসপাতালে বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়া। কেউ আবার দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন রাস্তার কোনো কুকুরশাবককে। এমনই বিচিত্র নানাকিছু। মজার বেপার হল এই হোটেলেও আছে ধার-বাকির ব্যবস্থা। অর্থাৎ কোনো দিন ভালো কাজ করতে না পারলে পরেরদিন একসঙ্গে দুটি ভালো কাজ করলেই হয়।

অদ্ভুত এই হোটেলের অবস্থান রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ের কাছেই অবস্থিত কমলাপুরের অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো সংলগ্ন ফুটপাথে। শুধু শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচ দিন দুপুর দেড়টা থেকে ৩টার মধ্যে সুবিধা বঞ্চিতদের দেয়া হয় দুপুরের খাবার। শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেয়া হয় রাতের খাবার। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এতিমখানায়ও খাবার নিয়ে যান।

খাবারের মেন্যুতে থাকে ডিম-খিচুড়ি, বিরিয়ানি, পোলাও, মাংসের মতো খাবার।অতিথিদের নাম, বয়স, পেশা ও ভালো কাজ লিপিবদ্ধ করে শুরু হয় খাবার দেওয়া।

কথায় আছে, অভাবে স্বভাব নষ্ট। তাই ক্ষুধার যন্ত্রনা কমিয়ে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন ‘ইউথ ফর বাংলাদেশ’ এর প্রধান স্বেচ্ছাসেবক আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, “ক্ষুধার্ত মানুষগুলি সাধারণত কিছু খারাপ কাজে উদ্ধুদ্ধ হয় ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকেই। এই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অনেক মানুষ আছে যারা এক বেলা খায় কিন্তু পরের বেলা তারা কী খাবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই সকল মানুষদের ক্ষুধার যন্ত্রণা কমাতে, ভালো কাজে উদ্ধুদ্ধ করতে আমাদের এই ভালো কাজের হোটেল। ”

একটা ভালো কাজ শুধু একটা ভালো কাজ না,তা আরও দশটা খারাপ কাজকে কিন্তু পেছনে ঠেলে দেয়। সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের চাঁদার টাকায় নিজেরাই বাজার করেন। প্রতিদিন রান্না করে নিজেরাই তা প্যাকেটে করে পরিবেশন করেন সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে। তাদের বিশ্বাস,মানুষগুলো যদি ভালো কাজ করার বিনিময়ে খাবার পায়, তাহলে সমাজে খারাপ কাজের উদাহরণ ক্রমশ কমে আসবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3